ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

ঋতুস্রাবে নারীকে পাঠনো হয় নির্বাসনে

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:৪২, ১৯ এপ্রিল ২০২২
ঋতুস্রাবে নারীকে পাঠনো হয় নির্বাসনে
প্রথা অনুযায়ী নারীকে একই কাপড় পরে চারদিন ধরে কাটাতে হয়।

পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব নারীদের জীবনে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু, একথা মানতে নারাজ নেপালের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। তাই ঋতুস্রাব চলমান অবস্থায় নারীকে দূরে কোথাও বা আবদ্ধ আলাদা কোনো ঘরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। যা একরকম নির্বাসনের মতো। 

নেপালের পশ্চিম এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম চৌপদীর হিন্দু অধিবাসীদের মাঝে শতাধিক বছর ধরে এই প্রথা প্রচলিত রয়েছে। এখানকার গ্রামগুলোর প্রায় সব পরিবারই এ প্রথা পালন করে। 

স্থানীয় ভাষায়, এই প্রথাকে বলা হয় ছাউপাদি। দেশটিতে ২০০৫ সাল থেকে এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে বেআইনি ঘোষণা করা হলেও, এখনো অনেক সমাজে তা প্রচলিত। 

Advertisement

এনডিটিভি জানায়, প্রথা অনুযায়ী নারীকে একই কাপড় পরে চারদিন ধরে কাটাতে হয়। ওই সময় কোনো পুরুষকে স্পর্শ করা যাবে না এবং বিশেষ কিছু খাবার খেতেও বারণ। এরপর ষষ্ঠ কিংবা সপ্তম দিনে গরুর মূত্র দিয়ে গায়ে ছিটিয়ে তাদের ঘরে তোলা হয়। এতে ‘অপবিত্রতা’ দূর হল বলে মনে করেন স্থানীয়রা। 

ঋতুস্রাবের এ সময় নারীকে অপবিত্র বলে মনে করা হয়। তাই পরিবারের সঙ্গে রাখা হয় না। এমনকি পানির টিউবয়েল পর্যন্ত ধরতে দেওয়া হয় না। তাদের বিশ্বাস, এতে দেবতা অসন্তুষ্ট হবেন।

ঋতুস্রাবের এ সময় নারীকে অপবিত্র বলে মনে করা হয়।

তবে দেশটির স্থানীয় নারী সমাজকর্মীরা এখন এ‌ প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার। এখানকার পরিবারগুলোকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন তারা। তারা অনুরোধ জানাচ্ছে, এ সময়টায় মেয়েকে বাড়ির বাইরে থাকতে বাধ্য করবেন না। তাদেরকে এ সময়টায় ঘরের ভেতর থাকতে দিন। 

তবে সমাজকর্মীরা দেশটির গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ খুবিই কঠিন কাজ। লোকজন তাদের সঙ্গে ঝগড়া লাগিয়ে দেয়। অভিশাপও দেয়। বেশিরভাগ সময় পুলিশ সঙ্গে নিয়ে গ্রামগুলোতে ঢুকতে হয়। ২০০৫ সালে নেপালজুড়ে এই অমানবিক প্রথাটি অবৈধ ঘোষণা করে আইন জারি করা হলেও পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি গোত্রে এখনও প্রথাটি প্রচলিত। জাতিসংঘসহ বিশ্বের সবগুলো আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা নারীর প্রতি এই নিষ্ঠুর আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছে।

অনেক পরিবার মেয়েদের এ সময়ে আলাদা একটি ঘরে রাখে। সেই ঘরগুলো সাধারণত মাটির। ঘরে প্রবেশের দরজা এতই ছোট যে হাতে-পায়ে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে ঢুকতে হবে। কোনো কপাট নেই। ওই নারীদের নিরাপত্তার জন্য শীতের সময় একটি মশারি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। তবে অন্যসময় খোলাই থাকে। রাতে স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মীরা টহল দেয় আর কুকুর ঘোরাফেরা করে। ফলে তাদের কাছে এটা নিরাপদ। শহরাঞ্চলের মেয়েদের কাছে স্যানিটারি প্যাড পরিচিত হলেও, এখানকার মেয়েরা ঋতুস্রাবের সময় পুরনো কাপড় ব্যবহার করে। স্যানিটারি প্যাড কেনার মতো টাকাও তাদের নেই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!