পরে ধীরে ধীরে তাঁতশিল্প বন্ধ হয়ে যায়। কর্মহারা তাঁতশিল্পের মালিকেরা তাদের শ্রমিকদের নিয়ে গড়ে তোলেন পাদুকাকারখানা। ছোট ছোট ঘর হয়ে ওঠে শিল্প।
সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০ থেকে ১২ হাজার কারখানা গড়ে উঠেছে এই এলাকায়। যার মধ্যে আধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ রপ্তানিমুখি কারখানা ২০টি। এসব কারখানায় এক লাখেরও বেশি শ্রমিক কাজ করেন। যেখানে নারী শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার।
.png)
১৯৮৯ সালে ভৈরবে পাদুকাশিল্পের যাত্রা শুরু। এটি দেশের সবচেয়ে বড় পাদুকা প্রস্তুতকারক এলাকা, যা আশপাশে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী বাজিতপুর আর কুলিয়ারচর উপজেলাতেও বেশ কিছু কারখানা গড়ে উঠেছে।
এ ছাড়া পাদুকাশিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাঁচামালামালের দোকান, বক্স তৈরির কারখানা, পাদুকা বিক্রির পাইকারি আড়ত ইত্যাদিতে কাজ করেন আরো ৩০ থেকে ৪০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।
পাদুকাশিল্পকে কেন্দ্র করে ভৈরবে জোরেশোরে নানা ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে, যা রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। যেমন ব্যাংক ও আর্থিক সেবার পরিধি বাড়ছে, নতুন নতুন হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট গড়ে উঠছে। কারখানা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও নতুন বাসা বানিয়ে ভাড়া দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এ ছাড়া পাদুকাশিল্পের কলেবর বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে গড়ে উঠেছে দুটি বিনোদনকেন্দ্র, যেখানে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটছে।
প্রতিবছর পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগমনে এই এলাকার পাদুকাশিল্প সংশ্লিষ্টদের ব্যস্ততা বাড়ে। সরগরম হয় এখানকার উৎপাদন-বিপণন। আগত ঈদকে ঘিরে উৎপাদন আর বিক্রিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এখানকার জুতোর কারিগররা।
বর্তমানে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের। ছাঁচে ফেলে কেউ কাটছেন চামড়া, তাতে কেউ আঠা লাগাচ্ছেন, কেউ করছেন অন্যান্য কাজ। এভাবেই দিনরাত চলছে তাদের কাজ। এমন ব্যস্ততা চলবে ঈদের চাঁদ না ওঠা পর্যন্ত।