ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

আজ বিশ্ব মৃত্যুদণ্ড বিরোধী দিবস

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৫, ১০ অক্টোবর ২০২২
আজ বিশ্ব মৃত্যুদণ্ড বিরোধী দিবস
ফাইল ছবি

প্রতি মাসের নির্দিষ্ট কিছু দিনে বিভিন্ন দেশে কিছু দিবস পালিত হয়। ঐ নির্দিষ্ট দিনে অতীতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে স্মরণ করা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতেই এই সব দিবস পালিত হয়। পালনীয় সেই সব দিবস গুলোর মধ্যে একটি হলো আন্তর্জাতিক মৃত্যুদণ্ড বিরোধী দিবস।

২৬ সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে কাউন্সিল অব ইইউ ‘ইউরোপীয়ান ডে অ্যাগেইনস্ট ডেথ পেনাল্টি’প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়। যা ২০০৮ সালের ১০ অক্টোবর থেকে পালিত হয়ে আসছে। ‘ওয়ার্ল্ড কোয়ালিশন অ্যাগেইনস্ট ডেথ পেনাল্টি’ কর্তৃক একই বছর থেকে একই দিনে ‘আন্তর্জাতিক মৃত্যুদন্ডাদেশ বিরোধী দিবস’ পালন শুরু হয়।

জন্ম নিলেই মরতে হবে, এ কথা সবার জানা। কিন্তু একজন সুস্থ মানুষকে যদি জোর করে মৃত্যু দেওয়া হয় তাহলে তা নিষ্ঠুরতার সমান। মৃত্যুদণ্ড হলো মানব সৃষ্ট একটি অমানবিক শাস্তি। বহু দেশে এখনও পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড প্রথা কার্যকর রয়েছে। বিশ্বের বহু দেশে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডকে ব্যবহার করা হয়। 

Advertisement

তবে যারা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি পান তাদের অপরাধের ঝুলি খুব একটা কম নয়। তার মধ্যে অনেকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, আবার কেউ বা বহু মানুষের মৃত্যুর কারণ। তবুও অনেকে মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তিকে মেনে নিতে পারেন না। সারা বিশ্বজুড়ে ১০ই অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে মৃত্যুদণ্ড বিরোধী দিবস পালন করা হয়। ১৯৪৮ সালে সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্র জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর মাত্র ৮টি দেশ অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধানকে বাতিল করা হয়। ১৯৭৭ সালে এর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ তে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হিসেব অনুযায়ী, ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৪০টি দেশ সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশকে বাতিল করে যা বিশ্বের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ দেশের সমপরিমাণ। তবে এ দেশগুলোর মধ্যে কেবল ১০২টি দেশ সব প্রকার অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের আইনকে বাতিল ঘোষণা করেছে। মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি মানেই রাষ্ট্র কর্তৃক একজন নাগরিকের বেঁচে থাকার অধিকার হরণ করা। এটি সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের দুইটি বিধানকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। প্রথমটি হলো, জীবন ধারণের অধিকার এবং দ্বিতীয়টি, অত্যাচার থেকে মুক্ত হয়ে বেঁচে থাকার অধিকার।

মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক প্রণীত সনদ ৬২/১৪৯ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০০৮ সালে এ সনদটি প্রয়োগ করা হয়। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির ওপর স্থগিতাদেশ দিতে অনুরোধ করা হয় যা এ শাস্তির বিলুপ্তির লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছিল। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মৌলিক অধিকার সনদের ২(২) ধারা মোতাবেক সব প্রকার মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে ইইউ রাষ্ট্রগুলো অবস্থান নেয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!