সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকে পহেলা বৈশাখ প্রথম উদ্যাপন শুরু হয়। আজকের পহেলা নববর্ষ বাঙালির একদিনের নয়। অন্তত পাঁচশত বছরের ঐতিহ্য। পহেলা বৈশাখের মূল উৎস মুসলমান রাজাদের হাত ধরে। বাংলা বিহার উড়িষ্যার মতো অখণ্ড ভূমির রাজত্ব করতেন তারা। কর আদায়ে জন্য এ দিনটাকে ঘিরে উৎসবের আয়োজন করা হতো। যদিও কর দিতে না পারলে অনেক প্রজা লাঞ্ছিত হয়েছেন এ দিনে।
বর্তমানে ঐতিহ্যগতভাবে সূর্যোদয় থেকে বাংলা দিন গণনার রীতি থাকলেও ১৪০২ বঙ্গাব্দের পহেলা বৈশাখ থেকে বাংলা একাডেমি এ নিয়ম বাতিল করে আন্তর্জাতিক রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে রাত ১২টায় দিন গণনা শুরুর নিয়ম চালু করে। এই দিনের মূল আকর্ষণ থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা মঙ্গল শোভযাত্রা।
.png)
মঙ্গল শোভাযাত্রা প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে আয়োজিত একটি নতুন বর্ষবরণ উৎসব। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলাদেশের ঢাকা শহরে এটি প্রবর্তিত হয়। একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ উৎসব হিসেবে সারাদেশে এটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

প্রতি বছরের মতো এবারও নতুন বছরকে বরণ করতে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে মহাকর্মযজ্ঞ চলছে। বর্ণিল মুখোশ, মাছ, ঘোড়া, পুতুলের প্রতিকৃতি নিয়ে আয়োজিত হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। যুদ্ধবিগ্রহের বিশ্বে শান্তির বার্তা কামনায় এবার মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পঙ্ক্তি ‘বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারি’। এছাড়াও থাকবে বিলুপ্ত প্রায় নীল গাই, বাঘ, ময়ূর, ভেড়া, টেপা পুতুল, ঘোড়ার প্রতীকী কাঠামো।

মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতি বছর রাজধানীর শাহবাগ মোড় হয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে গিয়ে শেষ হয়। বাঙালির প্রাণের এই উৎসবটি ২০১৬ সালে ইউনেস্কো ‘মানবতার অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে ঘোষণা করে। যা আমাদের গর্বের বিষয়।
নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাদের রঙ-তুলির আঁচড়ে সেজে উঠছে মুখোশ, সরা, মাটির জিনিসপত্র, ছবি ইত্যাদি।