বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী পূর্ণাঙ্গ মৌসুমি বৃষ্টি ও বর্ষণবলয় ‘রিমঝিম ১’। এটি একটি শান্ত বৃষ্টিবলয়। এই বৃষ্টিবলয়ে কোনো শক্তিশালী কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি নেই।
বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) এ তথ্য জানিয়েছে। তারা বৃষ্টি বলয় নামকরণ করে বৃষ্টিবলয়ের পূর্বাভাস করার প্রচলন করে। ‘রিমঝিম ১’ বলয়ের নামটিও তাদের দেওয়া।
বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, এটি চলতি বছরের অষ্টম বৃষ্টিবলয় এবং বছরের প্রথম মৌসুমি বৃষ্টিবলয়। এই বৃষ্টি বলয়ের প্রথমদিকে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাত থাকলেও পরবর্তীতে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া তেমন থাকবে না ইনশা-আল্লাহ।
১৯ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে দেশের সকল এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম বিভাগ ও দেশের উপকূলীয় এলাকায় এ বলয় সর্বোচ্চ সক্রিয় থাকবে। এছাড়া বরিশাল, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগ মাঝারি এবং ঢাকা বিভাগে কম সক্রিয় থাকবে এই বলয়। বৃষ্টি বলয় চলাকালীন সময়ে বেশি সক্রিয় এলাকায় বেশিরভাগ সময়ই একটানা বৃষ্টি থাকতে পারে।
বৃষ্টিবলয় ‘রিমঝিম ১’ চলাকালীন সময়ে দেশের উপর তেমন তাপপ্রবাহ সক্রিয় থাকবে না। তবে খুলনা, রাজশাহী, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের অনেক এলাকায় কিছুটা ভ্যাপসা গরম থাকতে পারে।
‘রিমঝিম ১’ চলাকালীন সময়ে দেশের কোন বিভাগে গড়ে কত মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে-
- ঢাকা ১০০ মিলিমিটার
- খুলনা ১৬০মিলিমিটার
- বরিশাল ১৯০ মিলিমিটার
- সিলেট ২৫০ মিলিমিটার
- ময়মনসিংহ ১৯০ মিলিমিটার
- রাজশাহী ১৪০ মিলিমিটার
- রংপুর ২৪০ মিলিমিটার
- চট্টগ্রাম ৩০০ মিলিমিটার
এ সময় কোন জেলায় গড়ে কত মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে (মিলিমিটার)-
- সিলেট- ২৯০+
- সুনামগঞ্জ- ২৮০+
- হবিগঞ্জ- ২০০+
- মৌলভীবাজার- ১৯০+
- রংপুর- ২৫০+
- দিনাজপুর- ১৮০+
- ঠাকুরগাঁও- ১৮০+
- পঞ্চগড়- ৩০০+
- নীলফামারী- ২৮০+
- লালমনিরহাট- ৩০০+
- কুড়িগ্রাম- ৩৫০+
- গাইবান্ধা ২৫০+
- জয়পুরহাট- ২০০+
- নওগাঁ- ১৭০+
- বগুড়া- ১৮০+
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ- ১৩০+
- রাজশাহী- ১৫০+
- নাটোর- ১৪০+
- সিরাজগঞ্জ- ১৭০+
- পাবনা- ১৬০+
- খুলনা (উত্তর)- ১৫০+
- খুলনা (দক্ষিণ)- ২৫০+
- সাতক্ষীরা (উত্তর)- ১৫০+
- সাতক্ষীরা (দক্ষিণ)- ২৬০+
- বাগেরহাট (উত্তর)- ১৪০+
- বাগেরহাট (দক্ষিণ)- ২৩০+
- যশোর- ১৪০+
- নড়াইল- ১৫০+
- মাগুরা- ১৩০+
- ঝিনাইদহ- ১২০+
- চুয়াডাঙ্গা- ১৪০+
- মেহেরপুর- ১২৫+
- কুষ্টিয়া- ১৩০+
- বরিশাল- ১৮০+
- পিরোজপুর- ২০০+
- ঝালকাঠি- ১৮০+
- পটুয়াখালী- ২৩০+
- বরগুনা- ২৪০+
- ভোলা- ২৫০+
- চট্টগ্রাম- ২৫০+
- ফেনী- ২১০+
- লক্ষ্মীপুর- ২০০+
- চাঁদপুর- ১৫০+
- কুমিল্লা- ১২০+
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া- ১০০+
- খাগড়াছড়ি- ১৮০+
- রাঙ্গামাটি- ২০০+
- বান্দরবান- ৩০০+
- কক্সবাজার- ৪০০+
- নোয়াখালী- ২৫০+
- ঢাকা- ১১০+
- গোপালগঞ্জ- ১৪০+
- মাদারীপুর- ১২০+
- শরিয়তপুর- ১১০+
- ফরিদপুর- ১২০+
- রাজবাড়ি- ১১০+
- মানিকগঞ্জ- ১০০+
- মুন্সীগঞ্জ- ১০০+
- নারায়ণগঞ্জ- ১০০+
- নরসিংদী- ৯০+
- গাজীপুর- ১১০+
- টাঙ্গাইল- ১৬০+
- কিশোরগঞ্জ- ১৯০+
- ময়মনসিংহ- ১৮০+
- জামালপুর- ২৩০+
- শেরপুর- ২৫০+
- নেত্রকোণা- ২৫০+
- কলকাতা (পশ্চিমবঙ্গ)- ১৭০+ মিলিমিটার।
বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, এখানে দেওয়া বৃষ্টির পরিমাণ একটা গড় ধারণা মাত্র। স্থানভেদে এর পরিমাণ কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। এটা শুধু তাদের গবেষণায় পাওয়া তথ্য, কোনো সরকারি পূর্বাভাস বা সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি নয়।