ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

সূর্যের উত্তরায়ন ঘটে ২১ জুন

মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ
প্রকাশিত: ১১:২৯, ২২ জুন ২০২৩
সূর্যের উত্তরায়ন ঘটে ২১ জুন
সংগৃহীত ছবি

সূর্যের অন্যতম গ্রহ হল পৃথিবী। অন্যান্য গ্রহের মত পৃথিবী একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করে সূর্যের চারদিকে উপবৃত্তাকার পথে প্রদক্ষিণ করে। সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণের জন্য পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট বা ১ বছর। প্রদক্ষিণের পথ উপবৃত্তাকার হওয়ায় এবং অক্ষ (earth axis) ২৩.৫ ডিগ্রি হেলে অবস্থানের কারণে পৃথিবী ও পৃথিবীর বিভিন্ন অংশ বছরের বিভিন্ন সময়ে সূর্য থেকে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করে। ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে সূর্যের আলো ও তাপ সমানভাবে আলোকিত ও উষ্ণ করে না এবং দিন-রাতের সময়ের ব্যাপ্তির মধ্যেও পার্থক্য সৃষ্টি হয়।

আমরা ছোট বেলায় পড়েছিলাম যে সবচাইতে বড় দিন ও ছোট রাত হল ২১ জুন ও সবচাইতে ছোট দিন ও বড় রাত হল ২১ ডিসেম্বর(এটি উত্তর গোলার্ধের জন্য প্রযোজ্য)। এই ঘটনাটিকে ইংরেজিতে solstice বলে। বাংলাতে গ্রীষ্মের সময় গ্রীষ্মকালীন অয়তান্ত আর শীতে শীতকালীন অয়তান্ত বলে! 

সংগৃহীত ছবি

২১ জুনের পরবর্তীতে দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে আর রাতের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে। আবার ২১ ডিসেম্বর এর পরে এর উল্টো ঘটনা বলে। দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধির এমন চক্রে বছরে দুইবার উভয় গোলার্ধে দিবা রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়। একে equinox বলে। ২০/২১ মার্চ ও ২২/২৩ সেপ্টেম্বরে দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান থাকে।

Advertisement

উত্তরায়ন (summer solstice): পৃথিবী সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণকালে ২১ মার্চ-এর বিষুবীয় (equinox) অবস্থান থেকে সূর্য কিরণ ক্রমে উত্তর দিকে সরে যেতে থাকে। ২১ জুন সূর্য পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তির উপর অবস্থান করে লম্বভাবে কিরণ দেয়। এ ২১ জুনকে সূর্যের উত্তরায়ন (summer solstice) বলে। 

এ সময় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল এবং দীর্ঘ দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত বিরাজ করে। solstice শব্দটি ল্যাটিন শব্দ solstitium থেকে এসেছে। যার অর্থ ‘সূর্য স্থির দাঁড়াল’ (the sun stands still)। সূর্য কিরণ ক্রমে উত্তর দিকে সরে ২১ জুন পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তির উপর স্থির দেখা যায় বলে উত্তরায়ন (summer solstice) নামকরণ করা হয়ে থাকতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!