ভিটামিন সি কোন ফলে বেশি- পেয়ারা রস নাকি কমলা?
ভিটামিন সি-এর কথা উঠলে অনেকেই প্রথমে কমলালেবুর কথা ভাবেন। তবে পুষ্টিগুণের দিক থেকে পেয়ারাও বেশ এগিয়ে। পেয়ারায় কমলালেবুর তুলনায় অনেক বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। কিন্তু কোন ফলের রস স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী?
পেয়ারা ও কমলালেবুতে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ
প্রতি ১০০ গ্রাম তাজা কমলালেবুতে প্রায় ৪৫–৫৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। অন্যদিকে, ১০০ গ্রাম পেয়ারায় সর্বোচ্চ ২২৮ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ভিটামিন সি পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ, পেয়ারায় কমলালেবুর তুলনায় চার গুণেরও বেশি ভিটামিন সি থাকতে পারে।
তবে ফলের জাত ও পরিপক্বতার ওপর এই পরিমাণ নির্ভর করে।
ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শ্বেত রক্তকণিকার কাজেও সহায়তা করে এবং কোষকে ক্ষতিকর পদার্থের প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
পেয়ারার রসের উপকারিতা
পেয়ারা ভিটামিন সি-এর পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের ভালো উৎস। বিশেষ করে গোলাপি শাঁসের পেয়ারায় লাইকোপেন থাকে। এসব উপাদান শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকেলের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
পেয়ারায় ভিটামিন এ ও পটাশিয়ামও রয়েছে। ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
ভিটামিন সি বেশি পাওয়ার জন্য পেয়ারা ভালো পছন্দ। তবে রসের পরিবর্তে গোটা পেয়ারা খেলে আঁশও পাওয়া যায়, যা হজমের জন্য উপকারী।
কমলালেবুর রসের উপকারিতা
কমলালেবুর রসেও ভিটামিন সি রয়েছে। এতে হেস্পেরিডিনের মতো ফ্ল্যাভোনয়েড থাকে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এসব উপাদান রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
কমলালেবুর রসে সাইট্রিক অ্যাসিড থাকে, যা এর টক স্বাদের জন্য দায়ী। তবে যাঁদের অম্লতা বা বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কমলালেবুর রস অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
কোনটি বেছে নেবেন?
ভিটামিন সি বেশি পেতে চাইলে পেয়ারা ভালো পছন্দ। তবে কমলালেবুও পুষ্টিকর ফল। দুটিরই নিজস্ব পুষ্টিগুণ রয়েছে।
পেয়ারা বা কমলার রস খেলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো একটি ফলের রস পান করলেই রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দ্রুত বেড়ে যায় বা সংক্রমণ প্রতিরোধ নিশ্চিত হয় না। এর জন্য সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও জরুরি।
যেভাবে খাবেন
চিনি যোগ করবেন না:
ফলের রসে অতিরিক্ত চিনি মেশালে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই চিনি ছাড়া রস পান করুন।
গোটা ফলকে প্রাধান্য দিন:
রসের তুলনায় গোটা ফলে সাধারণত বেশি আঁশ থাকে। তাই সম্ভব হলে পেয়ারা ও কমলালেবু গোটা খাওয়ার অভ্যাস করুন।
তৈরির পর দ্রুত পান করুন: রস তৈরি করে দীর্ঘ সময় রেখে দিলে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ কমতে পারে। তাই তাজা রস দ্রুত পান করা ভালো।
খালি পেটে পান করার বিষয়ে সতর্ক থাকুন: যাঁদের বুকজ্বালা বা অম্লতার সমস্যা রয়েছে, তাঁরা খালি পেটে কমলালেবুর রস পান করলে অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।
সবশেষে বলা যায়, ভিটামিন সি-এর পরিমাণের দিক থেকে পেয়ারা এগিয়ে থাকলেও পেয়ারা ও কমলালেবু দুটিই স্বাস্থ্যকর ফল। তাই প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের ফল রাখুন। আর তৃষ্ণা মেটাতে পানিকেই প্রধান পানীয় হিসেবে বেছে নিন।
লেখক : পুষ্টিবিদ লিনা আকতার
রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।