শীতে সোনামণির যত্নে মেনে চলুন ৫টি গোল্ডেন রুল
শীত আসছে! প্রতিবছর এই সময়টাতেই চেম্বারে একই প্রশ্ন, "ডাক্তার সাহেব, বাচ্চার সর্দি কাশি কিছুতেই কমছে না!"
শীতে প্রকৃতিতে যে পরিবর্তন আসে তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিশুর একটু কষ্টই হয়। এক্ষেত্রে মা-বাবাকে সতর্ক হতে হবে। শিশুর ত্বক ও শ্বাসতন্ত্র নাজুক এবং অপরিণত।
তাই শিশু তাপ ধরে রাখতে পারে না, সহজে ঠান্ডা হয়ে যায়। এ জন্য তাকে পর্যাপ্ত শীতের কাপড় পরাতে হবে। তবে এর মানে এই নয় যে, শিশুকে নাক মুখ বন্ধ করে শক্ত করে মুড়িয়ে দিতে হবে।
শীতের কাপড় যে আরামদায়ক হয়। সেদিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি খুব সকালে এবং রাতে যখন বেশি শীত পড়ে কিংবা যখন বাইরে বের হবে, তখনই বেশি সতর্কতা জরুরি। অন্য সময় হালকা মোটা কাপড় পরালেই হলো। শীতে ঘাম কম হওয়ার কারণে শিশুর প্রস্রাব বেশি হয়।
শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় শিশুর কোমল ত্বক হয়ে উঠতে পারে রুক্ষ ও শুষ্ক। তাই এই শীতে আপনার ছোট্ট সোনামণির ত্বকের যত্নে বেছে নিন উপযুক্ত বেবি লোশন, যা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং রাখবে কোমলতার ছোঁয়া।
শীতে ছোট্ট সোনামণির যত্নে থাকুন একটু বেশি সচেতন। আপনার সোনামণির ঠান্ডা লাগার আগেই এই ৫টা কাজ করুন
ঔষধের চেয়ে প্রতিরোধই বড়। ঠান্ডা লাগার আগেই এই ৫টি গোল্ডেন রুল মেনে চলুন:
১. স্তরে স্তরে জামা, ঘামে নয়। একবারে মোটা জামা নয়। ভেতরে সুতি, বাইরে উল। মাথা কান ঢাকা রাখুন। ঘামলেই জামা বদলে দিন, ঘাম থেকেই ঠান্ডা বেশি লাগে।
২. নাক পরিষ্কার তো বুক পরিষ্কার। নাক বন্ধ থাকলেই কাশি বাড়ে। বাইরে থেকে এসে হাত ধোয়া আর দিনে ২-৩ বার নরমাল স্যালাইন ড্রপে নাক পরিষ্কার রাখুন।
৩. ধুলা ধোঁয়া থেকে ১০০ হাত দূরে। শীতের ধুলা, চুলার ধোঁয়া, সিগারেটের ধোঁয়া বাচ্চার ফুসফুসের শত্রু। বিছানা কম্বল রোদে দিন, ঘরে সরাসরি ঠান্ডা বাতাস ঢুকতে দেবেন না।
৪. বুকের দুধ আর গরম পানি
৬ মাস পর্যন্ত শুধু বুকের দুধই সবচেয়ে বড় রোগ প্রতিরোধক। ৬ মাসের পর অল্প অল্প করে হালকা গরম পানি, স্যুপ।
৫. ভুলেও যা করবেন না। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক, বড়দের কাশির সিরাপ বা নাকের জোরালো ড্রপ নয়। ১ বছরের নিচে মধুও নয়।
কখন দেরি করবেন না?
শ্বাস দ্রুত, বুক দেবে যাচ্ছে, জ্বর ৩ দিনের বেশি, বুকের দুধ টানছে না, প্রস্রাব কমে গেছে, এমন হলে সাথে সাথে শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে আসুন।
* আরামদায়ক পোশাক পরান
খুব বেশি মোটা কাপড় নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী কয়েক স্তরের নরম পোশাক পরান।
* ত্বকের যত্ন নিন
শীতে শিশুর ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, তাই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
* পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
বাবুকে ধরার আগে হাত পরিষ্কার করুন এবং অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে রাখুন।
* পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করুন
বয়স অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাবার ও পর্যাপ্ত দুধ খাওয়ানোর দিকে খেয়াল রাখুন।
* সকালের হালকা রোদ উপভোগ করতে দিন
শিশুর আরাম ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
* জ্বর, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত কাশি বা শিশুর অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
লেখক : ডাঃ অমৃত লাল হালদার
নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ, সহযোগী অধ্যাপক
বারডেম মহিলা ও শিশু হাসপাতাল, সেগুনবাগিচা, ঢাকা
এপয়েনমেন্ট: ০১৬৩৬৬৯২২৯৮