ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে ‘গরুর গাড়ি’

ফিচার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:৩৩, ১২ জুলাই ২০২৩
কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে ‘গরুর গাড়ি’
ফাইল ফটো

কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘গরুর গাড়ি’। গরুর গাড়িকে এক সময় যাত্রিবান্ধব বন্ধু হিসেবে অনেকেই অখ্যায়িত করত।

গ্রামগঞ্জে পায়ে চলার আঁকাবাঁকা মেঠো পথে ধীরে ধীরে বয়ে চলা মানুষ আর পশুর শ্রমে চালিত সেই গরুর গাড়ি এখন আর চোখে পড়ে না।। তখন গ্রাম বাংলার মানুষ গরুর গাড়ি নিয়ে ছুটে চলতেন গ্রামের পর গ্রাম।

ফাইল ফটো

Advertisement

গরুর গাড়ির সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে গাড়িয়াল পেশাও; যা একদা ছিল বংশ পরম্পরায়। গরুর গাড়িচালককে বলা হতো গাড়িয়াল।

গরুর গাড়ি দেখতে এখন যেতে হয় জাদুঘরে। নতুন প্রজন্ম হয়তো জানবে না গরুর গাড়ির ইতিহাসও।

জানা গেছে, দুই যুগ আগেও গ্রামাঞ্চলে গরুর গাড়ি ছাড়া বিয়ে কল্পনাও করা যেত না। বরপক্ষের লোকজন ১০ থেকে ১২টি গরুর গাড়ি সাজিয়ে নিয়ে যেত। বরযাত্রীর গাড়ি দেখলে মেঠো পথের দুধারে এক নজর দেখার জন্য দাঁড়িয়ে পড়ত গ্রাম বাংলার মানুষ। আর শিশু-কিশোররা বড়যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করে নিত খাজা, বাতাসা, গজা, কদমা, জিলাপি, খুরমা কেনার মূল্য, বকশিশ বা পুরস্কার। আর গাড়িয়ালের পেছনে বসে থাকা বরের ভগ্নিপতি বা আত্মীয়স্বজন সবার উদ্দেশে বলতে থাকত দোয়া করবেন। ওরা জানি সুখে থাকে।

ফাইল ফটো

গ্রামের বউ-ঝিদের নাইওর যেতে গরুর গাড়ি ব্যবহৃত হতো অহরহ। সে সময় যেসব পরিবারে গরুর গাড়ি ছিল, তাদের কদর ছিল বেশি।

জানা গেছে, গরুর গাড়ির ইতিহাস সুপ্রাচীন। সিন্ধু অববাহিকা ও ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে গরুর গাড়ির প্রচলন শুরু হয় খ্রিস্টের জন্মের ১৬০০ থেকে ১৫০০ বছর আগে। পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে।

মানুষ যা কোনো দিন কল্পনা করেনি তাই এখন পাচ্ছে হাতের নাগালেই। ইট-পাথরের মতো মানুষও হয়ে পড়ছে যান্ত্রিক। মানুষ তার নিজস্ব ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে। আর তারই ধারাবাহিকতায় এক সময়ের ব্যাপক জনপ্রিয় গ্রাম-বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য এবং যোগাযোগ ও মালামাল বহনের প্রধান বাহন গরুর গাড়ি কালের বিবর্তনে আজ হারিয়ে যাচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!