প্রথমেই জেনে রাখা ভালো, স্যান্ডউইচ ব্রিটেনের একটি ছোট্ট শহর। সেখানকার আর্ল অর্থাৎ আর্ল অব স্যান্ডউইচ জন মন্টাগুর মাথাতেই প্রথম এই ভাবনা আসে। তিনি ছিলেন চতুর্থ আর্ল। দুটি পাউরুটির মধ্যে কোনো খাবার দিলে তার আরও সুস্বাদু হয়ে ওঠে।
ঘটনাটি মূলত ১৭৬২ সালের। জনাব মন্টেগুর জুয়ায় এমন আসক্তি ছিল যে সে জুয়ার টেবিল ছেড়ে এমনকি ডিনারের সময়ও উঠতে চাইতেন না। লোকে মন্টেগুকে বলতো ২৪ ঘণ্টার জুয়ারি। তিনি একদিন তার রাধুনিকে এমন কিছু বানিয়ে নিয়ে আসতে বললেন, যা খাইতে তারে জুয়ার টেবিল থেকে একবারের জন্যও উঠতে না হয়। এমনকি লাঞ্চ বা ডিনারের জন্যেও না। রাঁধুনি সেইটা না পারলে, মন্টেগু তারে বললো পাউরুটির স্লাইসের সঙ্গে মাংস দিয়া কিছু একটা বানিয়ে নিয়ে আসতে।
.png)
স্যান্ডউইচ অবশ্য জন মন্টেগুর উদ্ভাবন না। তুরস্কে ও গ্রিসে কাছাকাছি খাবার আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। লন্ডনের অভিজাত সমাজের একজন লোক হিসেবে মন্টেগু এই জায়গাগুলো ঘুরেছেন। যদিও তখন পর্যন্ত এই খাবারের নাম ছিল ‘মিট অন ব্রেড’ বা ‘রুটির মধ্যে মাংস’।
এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও ছড়িয়ে পড়ে এই বিশেষ খাবার। স্থানের নামেই নাম রাখা হয় খাবারের। অর্থাৎ স্যান্ডউইচ। আঠারো শতকে এই খাবার বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল নানা সমাজের লোকের মধ্যে। তার প্রধান একটি কারণ এই যে, খাবারটি সহজে বহনযোগ্য। ফলে অফিস বা কর্মস্থানে এই খাবার নিয়ে যাওয়া যায়। এছাড়াও, খাবারটি খেলে দ্রুত পেট ভরে যায়।
স্যান্ডউইচ দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আগে শুরুটা হয়েছিল ইংল্যান্ডে। তবে স্যান্ডউইচের ইংল্যান্ডে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কৃতিত্ব ইতিহাসবিদরা দিয়া থাকেন জন মন্টাগুর নামের এই জুয়ারিকে, তিনি ‘ফোর্থ আর্ল অব স্যান্ডউইচ’ এর জন মন্টেগু সাহেব।