নির্বাচনের তফসিল কী ও কেন?
আজ (বুধবার, ১৫ নভেম্বর) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। আর এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিকেলে বৈঠকে বসবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈঠকের পর ঘোষণা করা হতে পারে তফসিল।
আর তাই দেশজুড়ে সবার চোখ এখন আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশনের দিকে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার বিকেল ৫টায় কমিশনের বৈঠকের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তফসিল ঘোষণা করতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। আর নির্বাচন হতে পারে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে।
এদিকে, বিকেলের বৈঠক, জাতির উদ্দেশে সিইসির ভাষণ এবং তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তবে কী হতে পারে ইসির বৈঠকে, সিইসির ভাষণে কী ঘোষণা আসতে পারে, আদৌ এদিন তফসিল ঘোষণা হবে কি-না, তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।
আগামী ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে একাদশ সংসদের মেয়াদ। সংবিধান অনুযায়ী এ সময়ের মধ্যে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। আর এজন্য নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে ইসি।
এবার চলুন জেনে নিই- নির্বাচনের তফসিল কী ও কেন?
একটি নির্বাচন আয়োজনে যেসব কার্যক্রম রয়েছে তার সবকিছুর সময় বেঁধে দেওয়া হয় তফসিলে। এটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখের একটি আইনি ঘোষণা। যেমন প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতার জন্য মনোনয়নের কাগজ কখন জমা দেওয়া শুরু করতে পারবেন, সেটি ঘোষণা করা হয়। মনোনয়নের কাগজ নির্বাচন কমিশন কতদিনের মধ্যে বাছাই করবে, বাছাই প্রক্রিয়ায় যদি সেটি বাতিল হয়ে যায়, তাহলে প্রার্থিতা প্রত্যাশী ব্যক্তি কতদিন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন, তার সময় বেঁধে দেয় কমিশন। যারা প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাবেন তাদের তালিকা কবে নাগাদ ছাপানো হবে, নির্বাচনী প্রচারণা কবে থেকে শুরু করা যাবে, আর কতদিন পর্যন্ত তা চালানো যাবে - সেটির উল্লেখ থাকে।
সাধারণত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক ঘোষণার সঙ্গে প্রচারণা শুরুর তারিখ সম্পর্কিত থাকে। নির্বাচন কত তারিখ হবে, কোন সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হবে, আর কোন সময় পর্যন্ত চলবে, তার বিস্তারিত এবং ভোটের পর ভোট গণনা কীভাবে এবং কোথায় হবে, তাও পরিষ্কার উল্লেখ করা থাকে এতে। এক কথায় নির্বাচনের পুরো এ বিষয়টির সমষ্টিই নির্বাচনের তফসিল।
আইন অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পরবর্তী আট দিনের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়। এরপর বাছাইয়ের জন্য একদিন বরাদ্দ থাকে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য বরাদ্দ থাকে দুদিন। এরপর প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়। নির্বাচনী প্রচারণার জন্য সাধারণত দুই সপ্তাহ সময়সীমা দেয়া হয়ে থাকে। তবে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা বন্ধ করতে হয়।
নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ কি বদলানো যায়?
নির্বাচন কমিশন চাইলে সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ওই ৯০ দিনের মধ্যে দেওয়া নির্বাচনের তারিখ বদলাতে পারে। প্রয়োজনে সেটি করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের আছে। সেক্ষেত্রে তফসিল সংশোধন করে এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য তারিখও পরিবর্তন করা যায়।