তবে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার জন্য প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের।
গণপরিবহণ সংকট ও যানজটের কারণে শহরে দ্রুতই মোটরসাইকেলের ব্যবহার বাড়ছে। কিন্তু এ দুই চাকার বাহনটি শীতকালের ঘন কুয়াশার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বাইকার হিসেবে আপনারও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, কারণ বাইকার হিসেবে আপনার অসাবধানতাও হতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
.png)

শীতকালে বাইক রাইডের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে আপনাকে।
শীতকালে বাইক রাইডিংয়ের সময় যাতে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি বুক এবং গলায় না লাগে সেজন্য ভালো মানের জ্যাকেট পরুন। প্রয়োজন অনুযায়ী শীতের কাপড় সঙ্গে রাখুন। ঠান্ডা বাতাস এবং সর্দিতে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে ফুল ফেইস হেলমেট ব্যবহার করুন।
চলুন দেখে নেয়া যাক যেসব সতর্কতা অবলম্বন করলে শীতকালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলতে পারবেন।
রাইডের আগে আবহাওয়া চেক করুন: শীতকালে রাইডে বের হবার আগে অবশ্যই আবহাওয়া চেক করতে হবে। কুয়াশায় রাইডিংয়ের সময় বেশি সতর্ক থাকুন। কুয়াশার কারণে দেখতে সমস্যা হলে কোথাও দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন।
হেডলাইট অন রাখুন: শীতকালে রাইডে বের হবার আগে অবশ্যই হেডলাইট ও টেইললাইট কাজ করছে কী না চেক করুন।
এছাড়া শীতকালে বাইক চালানোর সময় কুয়াশায় সঠিকভাবে ইন্ডিকেটর ব্যবহার করুন এবং মোটরসাইকেলের হেডলাইট অন রেখে বাইক রাইডিং করুন। রাতের বেলা ভালো মানের ফগ লাইট ব্যবহার করুন।
টায়ার প্রেশার চেক করুন: শীতকালে রাস্তায় শিশির পড়ার কারণে বাইক ব্রেক করলে স্লিপ কাটার আশঙ্কা থাকতে পারে। তাই নিয়মিত টায়ার ও টায়ার প্রেশার চেক করা জরুরি।
শীতের সকালে কুয়াশায় অতিরিক্ত গতির জন্য অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, অতিরিক্ত গতি জীবন পুরাটাই নষ্ট করে দিতে পারে। তাই বাইকের গতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পাশাপাশি গতিসীমা মেনে চলুন।
ভালো মানের হেলমেট পড়ুন: শীতকালে শিশিরের কারণে বাইক স্লিপ কাটার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তাই চালক এবং পিলিওন উভয়কেই ভালো মানের হেলমেট পরিধান করতে হবে। সম্ভব হলে একজনের বেশি পিলিওন না নেয়াই উচিত। কারণ এতে দুর্ঘটনার পাশাপাশি মামলা খাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অতিরিক্ত গতি হতে পারে মৃত্যুর কারণ: শীতের সকালে কুয়াশায় অতিরিক্ত গতির জন্য অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে, অতিরিক্ত গতি জীবন পুরাটাই নষ্ট করে দিতে পারে। তাই বাইকের গতি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পাশাপাশি গতিসীমা মেনে চলুন।
রাইডের আগে ব্রেক চেক করুন: মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকিং সিস্টেম। শীতকালে ঘন কুয়াশার মধ্যে কয়েক হাত দূরের বস্তুও দেখা যায় না। তাই হঠাৎ করেই ব্রেক করার প্রয়োজন হতে পারে। এজন্য রাস্তায় বের হবার আগে উভয় ব্রেক ঠিকমতো কাজ করছে কিনা দেখুন।
এছাড়া হুটহাট ব্রেক করা থেকে বিরত থাকুন। ব্রেক করার জন্য নিরাপদ দূরত্ব রেখে রাইড করুন। রাস্তায় অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি দূরত্ব রাখুন।
লুকিং গ্লাস পরিষ্কার করুন: বাইক চালানোর সময় সবসময় লুকিং গ্লাসে নজর রাখাটা জরুরি। গাড়ির পেছনের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিমিনিটে ৬ থেকে ৮ বার লুকিং গ্লাস দেখতে হয়।
তবে শীতকালে কুয়াশার কারণে লুকিং গ্লাস ঘোলা হয়ে যেতে পারে। তাই গ্লাস ঘোলা হওয়া মাত্র বাইক সাইড করে লুকিং গ্লাস মুছে নিতে হবে। পাশপাশি রাইডের আগে লুকিং গ্লাসগুলো ঠিক অবস্থানে আছে কী না চেক করুন।
রিফ্লেক্টিভ জ্যাকেট ব্যবহার করুন: শীতের সকালে এবং রাতে অনেক কুয়াশা থাকে। ফলে রাস্তায় রাস্তায় চলাচল করা অন্যান্য যানবাহন যাতে সহজেই আপনাকে দেখতে পায় সেজন্য রিফ্লেক্টিভ জ্যাকেট ব্যবহার করুন।
এছাড়া শীতকালে বাইক রাইডিংয়ের সময় যাতে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি বুক এবং গলায় না লাগে সেজন্য ভালো মানের জ্যাকেট পরুন। প্রয়োজন অনুযায়ী শীতের কাপড় সঙ্গে রাখুন। ঠান্ডা বাতাস এবং সর্দিতে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পেতে ফুল ফেইস হেলমেট ব্যবহার করুন।
শীতের সময়ে বাইক রাইডিংয়ের সময় অবশ্যই হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করা উচিত। এই ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকা জরুরি কারণ অতিরিক্ত ঠান্ডা পড়লে, বাইকের হ্যান্ডেল দীর্ঘ সময় ধরে রাখলে, হাতের আঙুল নড়াচড়া করতে সমস্যা হয়। তাই আঙুল গরম রাখতে ভালো মানের হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার করুন।