ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী জাপানকে কাবু করতে অস্থায়ী এসব বিমানবন্দর স্থাপনের বেশ কিছু বিশেষ কারণ রয়েছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ বাহিনীর বিমান জাপান আক্রমণ করে পুনরায় ফেরত আসার আগেই বিমানের জ্বালানি শেষ হয়ে যেত। তাই দূরত্ব কমানোর জন্য তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই অস্থায়ী বিমানবন্দর বা বিমানঘাঁটি স্থাপন করে। এর মধ্যে অন্যতম এই ‘চকরিয়া বিমানঘাঁটি’ বা ‘চকরিয়া বিমানবন্দর’।
জ্বালানির কারণ ছাড়াও জাপানি যুদ্ধ জলযানের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে দেওয়া এবং মিয়ানমারের উপকূলীয় অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এই এয়ারবেস বানানো হয়। দোহাজারীর নিকটে বার্মা ক্যাম্পেইন ১৯৪৪-১৯৪৫ সময়ে ব্যবহার হত এটি। মূলত যুক্তরাজ্যের সেনা ও বিমান বাহিনী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছে।
.png)
১৯৪৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাজ্যের বিমান বাহিনীর দশম বিমানবাহিনীর কার্গো গ্রুপের বিমান সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে বার্মায় প্রেরণের জন্য ব্যবহৃত হত। ব্রিটিশ রয়েল এয়ারফোর্সের ২১১ স্কোয়াড্রন ১৭৭ স্কোয়াড্রন সহ অনেকেই দায়িত্ব পালন করেছে এখানে। কমান্ডো বিমান পরিচালনা করে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৫ সালের অক্টোবর ঘাটিটি বন্ধ করে দেওয়া পর্যন্ত ব্রিটিশরা বিমানঘাটিতে অবস্থান করেছিল।
লোকশ্রুতি অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে মানুষের মধ্যে খাদ্য সংকট দেখা দেয়াতে সেসময় চকরিয়া, দোহাজারি উপজেলাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্নস্থান থেকে অসংখ্য লোক বিমানবন্দরে নির্মাণকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করত। সেখানে কাজ করে পরিবার পরিজনের খাদ্য সংকট দূর করার কথাও লোকমুখে প্রচারিত হত।
বর্তমানে এই বিমানবন্দরের স্মৃতিচিহ্নটুকুও নেই। কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক পুরাতন বিমানবন্দর সড়ক ব্যবহৃত হয়। এই রাস্তাটা ও একটি সংরক্ষিত মাঠের কারণেই নতুন প্রজন্ম এই বিমানবন্দরের কথা জানতে পারে। কয়েকবছর আগে চকরিয়া পুরাতন বিমানবন্দর মাঠে সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করে; যেখানে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষেধ।