গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভকালীন সময়ের পর জন্মগ্রহণকারী ছেলে শিশুদের ওজন কমের কারণে প্রাপ্তবয়স্কে তাদের বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের সাতটি ভিন্ন ভিন্ন যৌন দম্পতির মধ্যে একজন বন্ধ্যাত্ব অনুভব করেন। তারা গর্ভধারণের জন্য এক বছর বা তার বেশি চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো ফলাফল পান না। যদিও এর জন্য বেশিরভাগ সময় নারীদের দায়ী করা হয়। তবে এক্ষেত্রে পুরুষদের উর্বরতা সমস্যাও সমান অনুপাতে হতে পারে। উভয়ই গর্ভধারণের অসুবিধাগুলোর প্রায় তৃতীয়াংশ কারণগুলোর জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই দম্পতির মধ্যে পুরুষটি সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর এর ফলেই বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বেশি ছিল।
.png)
ডেনমার্কের আড়ুস ইউনিভার্সিটির গবেষণার সহ-লেখক অ্যান থর্স্টেড বলেন- "আমাদের ফলাফলগুলো প্রমাণ করে যে, মাঝে মাঝে আমাদের পরবর্তী জীবনে ঘটে যাওয়া স্বাস্থ্য সমস্যার ব্যাখ্যা খুঁজে পেতে আমাদের প্রাথমিক জীবনের দিকে নজর দিতে হবে।"
হিউম্যান রিপ্রোডাকশন জার্নালের মাধ্যমে থর্স্টেড এবং তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন যে, তারা কীভাবে ডেনিশের দুটি শহরে ১৯৮৪ এবং ১৯৮৭ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী প্রায় ১১,০০০ মানুষের স্বাস্থ্যের ডেটা বিশ্লেষণ করেছে।
সেখানে জন্মের সময় ওজন এবং গর্ভকালীন বয়সের রেকর্ড থেকে সংগ্রহ করা হয় নানান তথ্য। আর তা থেকেই ব্যক্তিদের বন্ধ্যাত্ব নির্ণয় করা হয়। এই গবেষণা ২০১৭ সালের শেষ সময় পর্যন্ত করা হয়। গবেষণার ফল, পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ ওজন কম হওয়ার কারণেই বন্ধ্যাত্বের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
গবেষকরা কিছু বিষয় বিবেচনা করেন যেমন- পিতা-মাতা একসঙ্গে থাকতেন কিনা, মায়ের বয়স এবং মাতৃ ধূমপান ইত্যাদি। এসময় দেখা যায় ছেলেদের বন্ধ্যাত্বের কারণ হচ্ছে মায়েদের গর্ভকালীন বয়সে প্রয়োজনের চেয়ে ৫৫ শতাংশ ওজন কম হওয়া। আর জন্মেরপর ছেলে সন্তানের ওজন ১০ শতাংশ কম হওয়া। তাছাড়া গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের ধূমপানও এর জন্য দায়ী।
অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভকালীন বয়সে কম ওজনের কারণে শিশুর যৌনাঙ্গে নানা সমস্যা হয়। এই সমস্যাগুলো মধ্যে শুক্রাণুর পরিমাণ কম ও দুর্বল হওয়াও রয়েছে।
তবে থর্স্টেড বলেছেন- যৌনাঙ্গের এসব ত্রুটি নিয়ে আরো গবেষণা করা প্রয়োজন। কারণ এসব সমস্যা ছাড়াও আরো অনেক কারণে বন্ধ্যাত্বের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
তাই ছেলে সন্তানের বন্ধ্যাত্ব এড়াতে গর্ভকালীন সময় অবশ্যই মায়েদের সতর্ক হতে হবে। এক্ষেত্রে মায়েদের ওজন সঠিক রাখতে হবে। এছাড়া ধূমপান বা অন্য কোনো বাজে অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। আর খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও সচেতন হতে হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান