বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যানিটাইজার জীবাণুনাশক তো বটেই, তবে এর বেশি ব্যবহার ত্বকের জন্য ভালো নাও হতে পারে। জীবাণু মারার রাসায়নিক ও অ্যালকোহল সবসময় শরীরের সংস্পর্শে এলে তার প্রভাব খারাপও হতে পারে। হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ভালো না মন্দ, সেই নিয়ে নিশ্চিত মতামত এখনো পাওয়া যায়নি। তবে স্যানিটাইজারের কিছু খারাপ গুণ আছে সেটা ত্বকের জন্য মোটেও ভালো নয়।
যেসব রাসায়নিকের মিশ্রণে স্যানিটাইজার তৈরি হয়, তাদের অনুপাত যে সবসময় সঠিক হবে এমনটা নয়। তাই স্যানিটাইজারের উপরে খুব একটা ভরসা করতে পারছেন না চিকিৎসকরা। এ কারণেই স্যানিটাইজারের বদলে বারবার সাবান-পানিতে ৩০ সেকেন্ড হাত ধুয়ে নেয়ার পরামর্শই দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
.png)
এবার তবে জেনে নিন হ্যান্ড স্যানিটাইজার বেশি ব্যবহার করলে যেসব ক্ষতি হতে পারে- মার্কিন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) তাদের একটি গাইডলাইনে বলেছে, স্যানিটাইজারে অ্যালকোহলের মাত্রা বেশি হলে জীবাণুনাশ করার ক্ষমতা বাড়ে। সেই গাইডলাইনে ৬০ শতাংশের বেশি অ্যালকোহলের কথা বলা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, স্যানিটাইজারে ৩০ শতাংশ অ্যালকোহল থাকলেই জীবাণুনাশক হয়ে উঠতে পারে। মিশ্রণে অ্যালকোহলের ঘনত্ব যত বাড়ে, ততই সেই মিশ্রণটি জীবাণুনাশের ক্ষেত্রে আরও বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে। তবে অধিক অ্যালকোহল-যুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহারেরও নিয়ম আছে। বেশি জীবাণু মারবে মনে করে সারাদিন ঘণ্টায় ঘণ্টায় হাতে স্যানিটাইজার ঢাললে তার ফলে হবে উল্টো-
> ত্বক শুকিয়ে যেতে শুরু করবে। খসখসে ত্বকে চুলকানি থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। হাতে ফোস্কা পড়ে ঘাও হতে পারে।
> ভেজাল স্যানিটাইজারে বিপদ বেশি। দোকান থেকে কেনার সময় অ্যালকোহলের মাত্রা দেখে না কিনলে, ত্বকের সংক্রমণজনিত রোগ হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
> স্যানিটাইজারে সাধারণত তিন ধরনের রাসায়নিক থাকে- ইথাইল অ্যালকোহল বা ইথানল, আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল এবং এন-প্রোপানল। এসব অ্যালকোহল ত্বকের সঙ্গে বেশি মিশলে চামড়া শুকিয়ে যেতে থাকে।
> বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি স্যানিটাইজার ব্যবহার করলে ত্বক কুঁচকে যেতে শুরু করে, খুব তাড়াতাড়ি বলিরেখা দেখা যায়।
> অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ হলো ব্যাকটেরিয়া, প্যাথোজেন বা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো। তবে স্যানিটাইজারকে জীবাণু-প্রতিরোধী বানাতে ট্রিকলোসান নামে এমন এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, যার বেশি প্রয়োগ হলে প্যাথোজেন এর বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। সিডিসি এই উপাদানকে ক্ষতিকর বলে ঘোষণা করেছিল। এর কারণে ত্বকের সংক্রমণজনিত রোগে মৃত্যুও হয়েছিল অনেক রোগীর।
> নর্থওয়েন্টার্ন রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, স্যানিটাইজারে এমন রাসায়নিক আছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। শিশুদের প্রস্রাবে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন (crp) পাওয়া গিয়েছিল যা স্যানিটাইজারের অধিক ব্যবহারে তৈরি হয়েছিল। সিআরপি এমন এক ধরনের ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান যা রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমিয়ে দিতে পারে।
> ছোট থেকে স্যানিটাইজারে অভ্যাস তৈরি হলে শরীরের স্বাভাবিক ইমিউন সিস্টেমও দুর্বল হতে থাকে।ফলে শরীরের টি-কোষ প্যাথোজেনের মোকাবিলায় নিজে থেকে সক্রিয় হতে পারে না। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হতে থাকে।
> স্যানিটাইজারের মিষ্টি গন্ধে ভুললে চলবে না। কারণ এই গন্ধই বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই গন্ধ তৈরির জন্য ফ্যাথেলেটস নামক উপাদান ব্যবহার করা হয় যার প্রভাব মারাত্মক। স্যানিটাইজার লাগানোর পরে হাত দিয়ে খাবার খেলে এই উপাদান শরীরে ঢুকে টক্সিনের পরিমাণ বাড়াতে থাকে।
> শিশুদের শরীরে ফ্যাথেলেটস নামক উপাদান এখন অনেক বেশি। এর কারণ হলো পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বাচ্চাদের বেশি করে স্যানিটাইজার দেয়া হচ্ছে। খাবারের সঙ্গে এই বিষাক্ত উপাদানটি ঢুকছে শিশুর শরীরে। এমনও দেখা গেছে, মায়ের শরীর থেকে সদ্যোজাতের শরীরেও চলে এসেছে এই উপাদান। তাই সতর্ক থাকা বিশেষ জরুরি।
> ঘন ঘন স্যানিটাইজার নয়, সাবান পানিতেই হাত ধোয়া নিরাপদ।
বাড়িতে থাকার সময় ১০ বার সাবানের মাঝে এক-দু’বার স্যানিটাইজার চলতেই পারে, তবে ঘন ঘন নয়।
> সাবানের উপাদানও ত্বকের জন্য খুব একটা ভালো নয়, তবে স্যানিটাইজারের মতো রাসায়নিক তাতে থাকে না। আয়ুর্বেদিক সাবান বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো ত্বকের ধরন অনুযায়ী সাবান ব্যবহার করলে স্যানিটাইজারের থেকে বেশি কাজ হয়। ত্বকও নিশ্চিন্তে শ্বাস নিতে পারে।