কেন এমন হয়, আজ জেনে নেওয়া যাক কারণগুলো-
রক্তস্বল্পতা: রক্তের নিজস্ব একটা উষ্ণতা রয়েছে। রক্তস্বল্পতায় ভুগলে অনেকে হাতে-পায়ে বেশি শীত বোধ করেন। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে মাথা ঘোরানো, শারীরিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং অল্পতেই হাঁপিয়ে যাওয়া।
.png)
থাইরয়েড হরমোনের অভাব: রোগী শীতের ব্যাপারে অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে পড়েন। ওজন বেড়ে যায়, কণ্ঠস্বর ভেঙে যায়, চুল পড়ে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। বুদ্ধিবৃত্তিক দিক দিয়েও পিছিয়ে পড়েন।
কিডনির রোগ: দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিও অল্প শীতেই কাবু হতে পারেন। এ রোগে রক্তস্বল্পতাও হয়, যেটি এমনিতেই বেশি শীত লাগার কারণ।
রক্তনালির দুই রোগ: শীতে হাত-পায়ের রক্তনালি সাময়িকভাবে সংকুচিত হতে পারে। একে বলে রেনডস ফেনোমেনন। এ ক্ষেত্রে আঙুলগুলো অবশ ও ঠান্ডা হয়ে আসে; সাদাটে বা নীলচে রং ধারণ করে। কয়েক মিনিট থেকে ঘণ্টাখানেক পর্যন্ত এ অবস্থা থাকতে পারে। আর যখন রক্তনালিতে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়, তখন আঙুলে অস্বস্তিকর অনুভূতি হতে পারে, এমনকি ব্যথাও হয়।
পায়ের রক্তনালিতে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে পায়ে রক্ত পৌঁছাতে পারে না ঠিকঠাক। তাই পায়ে শীত লাগতে পারে। এক পায়ে যদি অন্যটির চেয়ে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয়, পেশি দুর্বল মনে হয়, অবশ অবশ লাগে কিংবা ব্যথা হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ইনফ্লুয়েঞ্জা, জ্বরজারি: শীত মৌসুমে যেসব রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, সেগুলোতে আক্রান্ত হলে শীত শীত লাগে। অনেক ক্ষেত্রে জ্বর আসার সময় কাঁপুনিও হয়।
স্নায়ুরোগ: পায়ে শীত লাগছে কিন্তু পা স্পর্শ করে মনে হচ্ছে, পা তেমন ঠান্ডা নয়। এ রকম কেন হয়, জানেন? স্নায়ুর সমস্যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্নায়ুর এমন সমস্যার জন্য দায়ী ডায়াবেটিস। ভিটামিনের অভাবেও এমনটা হতে পারে।
অ্যালকোহল: অ্যালকোহল সেবনে প্রথমে আরামদায়ক উষ্ণতা অনুভব করলেও এরপর শুরু হয় শীতের অনুভূতি। মস্তিষ্কের যে অংশে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়, অ্যালকোহলের প্রভাবে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওষুধ: কিছু ওষুধের কারণে আপনার বেশি শীত লাগতে পারে। এই যেমন রক্তচাপ ও হৃৎপিণ্ডের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিটা ব্লকার শ্রেণির ওষুধ সেবন করা হয়। এর একটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো হাত-পা ঠান্ডা বোধ করা। তবে এ ওষুধ হুট করে বন্ধ করতে নেই। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।