ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ স্বাস্থ্যকথা ]

অর্শরোগ ও গনোরিয়া নির্মূলে দারুণ কার্যকর মরিচা ফুল

পি. চৌধুরী
প্রকাশিত: ১৩:০৫, ১৬ জুন ২০২৪
অর্শরোগ ও গনোরিয়া নির্মূলে দারুণ কার্যকর মরিচা ফুল
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মরিচা বাংলাদেশের একটি বুনো ফুল। প্রথম দেখাতে যে কেউ ভেবে বসতে পারে হয়তো কোনো বিদেশি ফুল। কারণ, সচরাচর খুব একটা দেখা যায় না। বিক্ষিপ্তভাবে দু-একটি বাগানে চোখে পড়ে। তবে এ ফুল আমাদের দেশে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মে। আমাদের দেশের নদীতীরবর্তী অঞ্চল, পতিত স্থান ও পাহাড়ের পাদদেশে প্রায়শয়ই ফুটে থাকতে দেখা যায়।

এই ফুলের মরিচা নামটি পাকা মরিচের রঙের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। মরিচা বা কাকটুরী বা বন কার্পাস বা ইপিকাক (Tropical Milkweed, Blood Flower or Mexican Butterfly Weed) একটি চিরসবুজ, খাড়া কাণ্ড বিশিষ্ট, বহুবর্ষজীবী ছোট গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।  এটি সাধারণত জঙ্গলে জন্মাতে দেখা যায়। এই গাছটি সাধারণত ১ মিটার (৩.৩ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। পত্র সবৃন্তক, পত্রবৃন্ত অনূর্ধ্ব দেড় সেন্টিমিটার লম্বা, পত্রফলক ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার, সুস্পষ্টভাবে বল্লমাকার, দুদিকে ক্রমান্বয়ে সরু, পাতলা ঝিল্লিময় ও মসৃণ।

পাতা বিপ্রতীপ ও কাঁচা সবুজ রঙের। এই গাছের গোড়া থেকেই ডালপালা জন্মায়। বিক্ষিপ্ত পুষ্পমঞ্জরিতে ৮ থেকে ১০টি করে ফুল থাকে। মঞ্জরি দণ্ড প্রায় ৭ সেন্টিমিটার উঁচু। দলমণ্ডল উজ্জ্বল, গাঢ়-রক্তিম-লাল ও মসৃণ। পরাগধানী প্রায় আড়াই সেন্টিমিটার লম্বা। পৃথিবীর বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় বাগানগুলোতে প্রজাপতির খাবার কিংবা অলঙ্করণের জন্য এ ফুল রোপণ করা হয়।

Advertisement

মরিচার প্রস্ফুটনকাল প্রায় বর্ষব্যাপ্ত। ফল লম্বাটে, আগা চোখা, পরিপক্ব হলে আপনা আপনিই ফেটে যায়। ভেতরটা মসৃণ ও কোমল তুলায় পূর্ণ। এর বংশবৃদ্ধি হয় কাণ্ডজ মূল ও বীজের সাহায্যে। মরিচা ফুল বাংলাদেশ, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ পূর্ব এশিয়ার প্রায় সকল দেশেই জন্মে। এছাড়া ফুলচাষিরা এই গাছ বাড়ির বাগানে ও টবে রোপণ করে থাকে। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে মরিচা ফুলের অনেক আবাদিত জাত বিভিন্ন উদ্যানের শোভাবর্ধনে সহায়তা করছে।  এই গাছের পাতা ও মূল ঔষধি গুণসম্পন্ন।

ঔষধি গুণ:

১. মরিচা গাছের পাতার রস নিয়মিত খেলে মুখের অরুচি ভাব কেটে যায়।
২. মরিচা গাছের পাতা বেটে ক্ষতে লাগালে ক্ষত দ্রুত ভালো হয়।
৩. আমাশয় রোগ দেখা দিলে মরিচা গাছের মূল সিদ্ধ করে এই ক্বাথ নিয়মিত খেলে উপকার পাওয়া যায়।
৪. মরিচা গাছের পাতা সিদ্ধ করে কুলকুচি করলে মুখের ঘা বা পায়রিয়া সমস্যা ভালো হয়।
৫. মরিচা গাছের মূল সিদ্ধ করে খেলে পেট ব্যথার সমস্যা ভালো হয়।
৬. মরিচার মূল বমনকারক ও জ্বরনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
৭. মরিচার পাতার রস কৃমিনাশক এবং রক্তক্ষরণ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। 
৮. মরিচা গাছে অর্শ রোগ ও গনোরিয়া নির্মূলে ব্যবহার করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!