ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ স্বাস্থ্যকথা ]

বিয়ে করতে ভয় পাওয়াও একটি রোগ, আপনিও কি ‘গ্যামোফোবিয়ায়’ আক্রান্ত?

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:২১, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪
বিয়ে করতে ভয় পাওয়াও একটি রোগ, আপনিও কি ‘গ্যামোফোবিয়ায়’ আক্রান্ত?
অলংকরণ: ডেইলি বাংলাদেশ

বর্তমান সময়ে অনেকে ‘ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিট’, ‘লিভ টুগেদার’ বিশ্বাস করলেও স্থায়ী সম্পর্কে যেতে চায় না। কারণ বিয়ে করতে বা বিবাহিত জীবন সম্পর্কে অস্বাভাবিক ও ক্রমাগত ভয় কাজ করে। আপনিও কি বিয়েতে ভয় পান? এই ভয়ের নাম গ্যামোফোবিয়া। গ্রিক শব্দ গ্যামো অর্থ বিয়ে ও ফোবিয়া মানে ভয়। গ্যামোফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছে বৈবাহিক সম্পর্ককে কখনো সরল জীবনযাপনের হুমকিস্বরূপ মনে হয়। এছাড়াও সম্পূর্ণ নতুন একটি মানুষের সঙ্গে বসবাস ও তার পরিবার মানিয়ে চলাকেও তারা সহজভাবে নিতে পারেন না।

গ্যামোফোবিয়ার সঙ্গে কিছুটা ফিলোফোবিয়া'র মিল আছে। যারা মূলত প্রেমে পড়তে ভয় পায়, ভালোবাসার সম্পর্কে যাদের অনীহা তাদের এই সমস্যাকে সাইকোলজিক্যাল দিক থেকে ব্যাখ্যা করলে বলা যাবে, তারা ফিলোফোবিয়ায় ভুগছে। কিন্তু, গ্যামোফোবিয়ার ব্যাপারটা হলো, এই রোগে যারা আক্রান্ত তারা প্রেম করেন, ভালোবাসাও বুঝেন, কিন্তু যখনই সম্পর্কের মধ্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি চলে আসে তখন আর এই রোগীরা এগোতে চান না। অনেক সম্পর্ক ভাঙেই কেবল কমিটমেন্ট না থাকার কারণে।

১৯৯০ সালের পরে যাদের জন্ম, বিবাহজনিত এই দুশ্চিন্তা তাদের মধ্যে বেশি অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরো ২০২০ অনুযায়ী বিগত ১৫০ বছরে বিয়ে করার হার সবচেয়ে কমে গেছে, যেটা প্রতি হাজারে জনে মাত্র ৯.৮ শতাংশ। যা ২০২১ সালে এসে ৬ শতাংশ নামে। এই তথ্যগুলো আমাদের জন্য আশঙ্কাজনক।

Advertisement

কেন হয় গ্যামোফোবিয়া?

বিভিন্ন কারণেই গ্যামোফোবিয়া হতে পারে। ব্রোকেন ফ্যামিলিতে বেড়ে ওঠা অনেকের মধ্যেই এই ফোবিয়া থাকতে পারে। তাদের হয়ত ধারণাই হয়ে যায় সম্পর্ক মানেই কোনো একদিন আর টিকে থাকবে না, ভেঙ্গে যাবে। আবার যেসব পরিবারে বাবা মা খুব ঝগড়া করেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বাভাবিক সুর কেটে যায়, সেইসব পরিবারের অনেকেও গ্যামোফোবিয়ায় ভুগতে পারে।

এছাড়া, অনেকক্ষেত্রেই এমন হয় সত্যিকারের প্রেম ভেঙ্গে যাওয়ার পর অনেকেই মানসিকভাবে এতোটাই ভেঙ্গে পড়ে যে, কাউকে আর তার আপন মনে হয় না। সে তখন কাউকেই আর বিশ্বাস করতে পারে না, অন্তত কমিটেড কোনো রিলেশনশীপের জন্য। আবার হীনম্মন্যতা কিংবা নিজের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত অবসেশনে ভোগা মানুষদেরও গ্যামোফোবিয়া হতে পারে।

গ্যামোফোবিয়ার উপসর্গ

১. প্রচণ্ড ঘামতে থাকা।  

২. বুক ধরফর করতে থাকা। 

৩. বমি বমি ভাব। 

৪. থরথর করে কাঁপা। 

৫. হাত, পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। 

৬. শ্বাসকষ্ট বা ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া। 

৭. শরীর ঠান্ডা হয়ে হাত-পা কাঁপা। 

৮. মাথা ঝিমঝিম করে হালকা হয়ে যাওয়া।

৯. হজমে গোলমাল বা পেট খারাপ হওয়া ইত্যাদি।

দীর্ঘমেয়াদে গ্যামোফোবিয়াতে ভোগার পরিণতি

ইদানীং গবেষণায় দেখা গেছে ৩৬ শতাংশ অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে বিবাহজনিত দুশ্চিন্তার হার প্রকট। গ্যামোফোবিয়া ক্রমাগত মানুষকে নিজের কাছ থেকে হটিয়ে দেওয়ার পরিণতি স্বরূপ মনোদৈহিক নেতিবাচক প্রভাব সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়। যেমন– 

১. বিষণ্নতা। 

২. ক্ষেত্র বিশেষে আত্মহত্যার চিন্তা। 

৩. যৌন দুর্বলতা (পুরুষদের ক্ষেত্রে)।

৪. দুশ্চিন্তা এবং প্যানিক অ্যাটাক।  

৫. মদ ও মাদকের ব্যবহার ইত্যাদি।

চিকিৎসা প্রয়োজন?

গ্যামোফোবিয়াতে সাইকোথেরাপি চমৎকার কাজ করে। ধীরে ধীরে সাইকোথেরাপি আপনাকে ভাবতে শেখাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার সুবিধা ও অসুবিধার দিকসমূহ। আস্তে আস্তে বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে অভ্যস্ত করবে। তবে মনে রাখতে হবে, এর জন্য একাধিক সেশনের প্রয়োজন হবে। দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই চট করে জাদুর ছড়ি কেউ ঘুরাবে না যে, আপনি গ্যামোফোবিয়া থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন। ধৈর্য ধরতে হবে এবং নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে।

ক্ষেত্র বিশেষে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ফোবিয়ার ওষুধ দিয়ে থাকেন। কিন্তু এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে যায়। এছাড়াও দীর্ঘদিন এসব ওষুধ গ্রহণ করা ঠিক না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোবিয়ার সবচেয়ে উপযোগী চিকিৎসা হচ্ছে হাইপোথেরাপি, সাইকোথেরাপি ও নিউরো-লিঙ্গুইস্টিক প্রোগ্রামিং।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!