ঢাকা,  রোববার   ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ স্বাস্থ্যকথা ]

বিএমইউতে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার তাগিদ

নিজেস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯:৩৮, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
বিএমইউতে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার তাগিদ
বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে বক্তব্য রাখছেন

বাংলাদেশে ক্যান্সার শিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক চিকিৎসাসেবাকে শক্তিশালী ও সমন্বিত করতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) যৌথভাবে ‘টোগেদার টুওয়ার্ডস আ ক্যান্সার-ফ্রি বাংলাদেশ’ (Together Towards a Cancer-Free Bangladesh) শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী বলেন, “ক্যান্সার চিকিৎসার উন্নয়নে শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি উচ্চতর চিকিৎসা শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, দক্ষ জনবল তৈরি, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ প্রয়োজন। বিএমইউতে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্সার-সংশ্লিষ্ট ও সহযোগী বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।” উপাচার্য বিএমইউকে ক্যান্সার শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎকর্ষকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. আকরাম হোসেন তার বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনায় বিএমইউর বিভিন্ন বিভাগে পরিচালিত ক্যান্সার চিকিৎসা, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি ক্লিনিক্যাল অনকোলজি, মেডিক্যাল অনকোলজি, সার্জিক্যাল অনকোলজি, প্যাথলজি, রেডিওলজি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও মেডিক্যাল ফিজিকসসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিভাগের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিউমার বোর্ড গঠন, ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি ও উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার মাধ্যমে বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান করে নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ, এইচপিভি টিকাদান, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণের লক্ষ্যে একটি জাতীয় জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন (Population-based Cancer Registry) ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রকৌশল ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, ওষুধশিল্প ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সমন্বিত অংশীদারত্বের তাগিদ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউর সাবেক অস্থায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহা. মোস্তফা আজিজ সুমন, বিএইচআরএফ সভাপতি প্রতীক এজাজ ও সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ শুভসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/বিএম/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!