ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ তথ্য প্রযুক্তি ]

শুধু তথ্য সংরক্ষণেই এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
শুধু তথ্য সংরক্ষণেই এআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়
সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার গুরুত্বও বাড়ছে। শুধু দেশের ভেতরে তথ্য সংরক্ষণ করলেই এআইয়ের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয় না। তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং এআই পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব এআই সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইবিএম থিংক ২০২৬ সম্মেলনের ভারতীয় পর্বে এআইয়ের নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। এতে আইবিএম ও ইয়োটা ডেটা সার্ভিসেসের কর্মকর্তারা নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

শুধু দেশে তথ্য রাখলেই নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত নয়

ইয়োটা ডেটা সার্ভিসেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীল গুপ্তের মতে, তথ্য কোথায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই তথ্য ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো দেশের তথ্য নিজস্ব সীমানার মধ্যে সংরক্ষিত থাকলেও প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা কঠিন। বিশেষ করে জরুরি পরিস্থিতিতে দূর থেকে প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ বা তথ্যে প্রবেশাধিকারের ঝুঁকি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

তার মতে, তথ্য সংরক্ষণের অবস্থান এবং তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ দুটি আলাদা বিষয়। বিদেশে তথ্য রেখেও কোনো প্রতিষ্ঠান কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে। আবার দেশের ভেতরে তথ্য সংরক্ষণ করেও প্রযুক্তিগতভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারে।

এআই প্রযুক্তিতে আইবিএম ও ইয়োটার যৌথ উদ্যোগ

প্রতিষ্ঠানগুলোর এআই ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় যৌথভাবে কাজ করছে আইবিএম ও ইয়োটা ডেটা সার্ভিসেস। এ উদ্যোগের আওতায় আইবিএমের এজেন্টিক এআই প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়াটসনএক্স অর্কেস্ট্রেট’ ইয়োটার জিপিইউ-চালিত ‘শক্তি ক্লাউড’ প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘সার্বভৌম কোর’ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা।

এজেন্টিক এআই এমন একধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য একাধিক ধাপের কাজ পরিকল্পনা ও সম্পন্ন করতে পারে। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, এ প্রযুক্তি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করতে সহায়তা করবে।

আইবিএম সফটওয়্যার ইন্ডিয়ার মহাব্যবস্থাপক শ্রীরাম রাঘবন বলেন, এআই এজেন্ট পরিচালনায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো এআই এজেন্টের কার্যক্রম পরিচালনা, ব্যবহার ও পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।

অন্যদিকে, সুনীল গুপ্ত বলেন, নিজস্ব প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তুলতে বড় বিনিয়োগ ও দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হয়। ক্লাউডভিত্তিক সেবা ব্যবহার করলে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এআই এজেন্টের নিরাপত্তায় তিন বিষয়ে গুরুত্ব

প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বিভিন্ন ব্যবস্থায় এআই এজেন্টকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা অননুমোদিত কার্যক্রমের কারণে আর্থিক ও পরিচালনাগত ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে শ্রীরাম রাঘবন তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এগুলো হলো প্রতিটি এআই এজেন্টের জন্য আলাদা পরিচয় ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতির বাইরে অতিরিক্ত ক্ষমতা না দেওয়া এবং এজেন্ট চালুর আগে পরীক্ষা ও চালুর পর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা।

তার মতে, এআই এজেন্টকে প্রয়োজনের বেশি ক্ষমতা দেওয়া হলে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই প্রতিটি এজেন্টের কাজের সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মানুষের হস্তক্ষেপের সুযোগ রাখতে হবে।

নিজস্ব এআই প্রযুক্তি তৈরি ও রপ্তানির লক্ষ্য

এআই প্রযুক্তিতে শুধু ব্যবহারকারী হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না ভারত। দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তা রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ লক্ষ্যে ডেটা সেন্টার, চিপ, সার্ভার, স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক ডেটাসেট, নিজস্ব এআই মডেল এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন প্রযুক্তি খাতের কর্মকর্তারা।

সুনীল গুপ্তের মতে, এআই প্রযুক্তির প্রতিটি স্তরে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অন্যদিকে, শ্রীরাম রাঘবন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যাপক পরিসরে এআইয়ের ব্যবহার এবং এআইভিত্তিক ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।

ভারতে ইতোমধ্যে ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেসের (ইউপিআই) মতো ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। একই ধরনের অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে সরকারি ও নাগরিক তথ্য নিরাপদভাবে এআই সেবায় ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং তথ্যের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে এসেছে, ভবিষ্যতে এআইয়ের সফলতা শুধু উন্নত মডেল তৈরি কিংবা বিপুল তথ্য সংরক্ষণের ওপর নির্ভর করবে না। প্রযুক্তির অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও পরিচালনার ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!