যৌনতার বিনিময়ে নারীদের চাকরি, জড়িত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মীরা
আফ্রিকার দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মীরা বিপুল সংখ্যক নারী ও কিশোরীকে যৌন হয়রানি করেছিল বলে সংস্থাটির স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস এই প্রতিবেদনকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। আর সংস্থার আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক মাতশিদিসো মোয়েতি বলেছেন, তিনি ‘অপমানিত, ভীত এবং ভগ্নহৃদয়।’
স্বাধীন তদন্ত কমিশন যৌন হয়রানির ঘটনার শিকার ১৩ থেকে ৪৩ বছর বয়সী প্রায় ৮০ জন নারী ও কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেছে। এই নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ২১ কর্মীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মী রয়েছেন।
.png)
ধর্ষণ-নিপীড়নের শিকার অন্তত ৩০ জন নারী সরাসরি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। অন্তত ৫০ জন নারী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ছাড়াও ইউনিসেফ, অক্সফ্যামের মতো সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছেন।
আক্রান্ত নারীদের অভিযোগ, ইবোলার সময় বেশ কিছু চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ইবোলার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য সাময়িক সময়ের শর্তে বহু স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। অভিযুক্ত কর্মীরা সে সময় বহু চাকরিপ্রার্থী নারীর ইন্টারভিউ নেয়। তাদেরকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়, বসের সঙ্গে যৌনতায় তাদের আপত্তি আছে কি না। যৌন সংসর্গ করলে পদোন্নতির কথাও বলা হয়।
আক্রান্ত নারীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, কাজের প্রয়োজনে তারা রাজি হয়েছিলেন। সেই সুযোগে তাদের ধর্ষণও করা হয়েছে।
ধর্ষণের শিকার নারীদের মধ্যে ২৯ জন নারী গর্ভবতী হয়েছেন। অভিযুক্ত কর্মীদের কেউ কেউ এসব নারীদের গর্ভপাতে বাধ্য করেছিলেন।
পশ্চিমা কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে চার জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং দু’জনকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: এএফপি