সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে জানা গেছে, নানা জল্পনা কল্পনা শেষে আগামী ২৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) আইন মেনে প্রেমিক কেই কমুরোর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছেন মাকো।
নিয়ম অনুযায়ী, রাজপরিবাোরের বাইরে কাউকে বিয়ের মধ্য দিয়ে রাজশিরোপা হারাবেন মাকো। অর্থাৎ তিনি আর রাজকুমারীর মর্যাদা পাবেন না। জাপানের রাজপরিবার আইন ১৯৪৭ অনুসারে, রাজকন্যারা সাধারণ ব্যক্তিকে বিয়ে করলে রাজপরিবার ছাড়তে হয় এবং রাজপ্রাসাদের সবকিছু থেকে বঞ্চিত হন।
.png)
সে ক্ষেত্রে সহপাঠীর সঙ্গে প্রেম করলেও বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন ছিল রাজকুমারী মাকোর জন্য। তবে রাজপ্রাসাদের জৌলুস ছেড়ে সাধারণ ঘরের ছেলেকেই বিয়ে করতে প্রস্তুত তিনি।
জানা গেছে, ২০১২ সালে টোকিওর ইন্টারন্যাশনাল ক্রিস্টিয়ান ইউনিভার্সিটিতে তাদের প্রথম পরিচয়। একসঙ্গে পড়াশোনা করার সুবাদে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৭ সালে এই যুগলের বাগদান হলেও বিয়ে পিছিয়ে যায়। পরের বছরই তাদের বিয়ে করার কথা ছিল। তদবে কোমুরোর মা এবং তার সাবেক বাগদত্তার অর্থ কেলেঙ্কারিতে তা আরেক দফা পেছায়। দীর্ঘ তিন বছর পর অবশেষে তাদের বিয়ের দিন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বেশিরভাগ জাপনি নাগরিক কোমুরোকে রাজকুমারী মাকোর যোগ্য পাত্র হিসেবে মনে করেন না।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ও লিঙ্গ গবেষণার অধ্যাপক হিটোমি টোনোমুরার মতে, পাত্র হিসেবে কোমুরো সামাজিক প্রত্যাশা অনুযায়ী না। তিনি আইনজীবী না হলে একজন গায়ক বা শিল্পী হলেও রাজকুমারীর সাথে বিয়ে মেনে নেয়া যেত।
এদিকে, জাপানের রাজপরিবারে বিয়ের আয়োজন জাঁকজমকপূর্ণ হলেও মাকোর বিয়ে হবে অনাড়ম্বর। কারণ নিয়ম অনুযায়ী রাজপরিবারের কেউ বাইরের কাউকে বিয়ে করলে তার পদ-পদবী দুটোই ত্যাগ করতে হয়। রাজপদবি হারানোর পর ঐতিহ্য অনুযায়ী সেজন্য তাকে ১৩ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়া হবে। তবে, এই অর্থ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মাকো।
জানা গেছে, বিয়ের পর রাজপ্রসাদ ছেড়ে স্বামী কেই কোমুরোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাবেন প্রিন্সেস মাকো। সেখানে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন কোমুরো।