চীনের জিনজিয়াংয়ের পণ্য নিষিদ্ধের আইনে স্বাক্ষর বাইডেনের
চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতন করে জোরপূর্বকভাবে কাজ করিয়ে নেয়ার অভিযোগে সেখানে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করার একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর ফলে বিলটি এখন আইনে পরিণত হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের চাপে বিলটি এই মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটে সর্ব সম্মতভাবে পাস হয়। ওই বিলের অধীনে চীনের জিনজিয়াং থেকে কোনো পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করতে হলে সরবরাহকারীকে আগে প্রমাণ করতে হবে যে, পণ্যটি উৎপাদনে বাধ্যতামূলক শ্রম ব্যবহার করা হয়নি। বিশেষ করে উইঘুর মুসলিমদের সেখানে নিপীড়নের ঘটনা ঘটেনি, তা প্রমাণ সাপেক্ষে সেসব পণ্য আমদানির পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
এর আগে চলতি বছরের ৯ জুলাই চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে বিপুলসংখ্যক সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমকে বন্দি রেখে নির্যাতন-গণহত্যা-ধর্ষণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে চীনের ১০টি কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
.png)
উইঘুর ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া শুরু করেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে। ২০১৯ সালে ৮টি প্রযুক্তিভিত্তিক চীনা কোম্পানিকে কালো তালিকায় ফেলেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
গত কয়েক বছর ধরে জিনজিয়াং প্রদেশে বসবাসরত ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের বন্দিশিবিরে রাখার পাশাপাশি তাদের গণহত্যা, বাধ্যতামূলক শ্রমদান এবং উইঘুর নারীদের ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সরকারের বিরুদ্ধে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পম্পেও সর্বপ্রথম চীনের বিরুদ্ধে জিনজিয়াংয়ে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছিলেন। গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেছিলেন- উইঘুর মুসলিমদের গণহারে হত্যা করছে চীন।
তার এই বক্তব্যের জেরে পম্পেও এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার; এবং তা এখনও বহাল আছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনসমূহের অভিযোগ, চীনের ক্ষমতাসীন সরকার জিনজিয়াং প্রদেশে প্রায় দশ লাখ উইঘুর মুসলিমকে ২০১৬ সাল থেকে একটি ক্যাম্পে বন্দি করে রেখেছে।
তাদের ধর্মের অধিকার, সন্তান উৎপাদনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং তাদের সঙ্গে কার্যত দাসের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে; যদিও এসব অভিযোগ কখনোই মানতে চায়নি চীন।