ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ক্ষতিপূরণে ব্যবহার হবে আফগান অর্থ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫২, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ক্ষতিপূরণে ব্যবহার হবে আফগান অর্থ
ছবি: সংগৃহীত

তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তানের যে অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভে আটকা পড়েছে তা বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিনিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সরকার।

ফেডারেল রিজার্ভে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১ হাজার কোটি ডলার জমা ছিল। গত বছর আগস্টে তালেবান বাহিনী দেশটির জাতীয় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর সেই অর্থ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ট্রেজারি বিভাগ।

জব্দ করা ওই অর্থ কোন খাতে ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে এতদিন চাপে ছিল মার্কিন সরকার। কারণ, ট্রেজারি বিভাগের নির্দেশনা ছিল সন্ত্রাসবাদের জন্য সহায়ক হয় এমন কোনো ক্ষেত্রে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।

Advertisement

বাইডেন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ১ হাজার কোটি ডলারের মধ্যে ৭০০ কোটি ডলার ৯/১১-র হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা বাবদ ব্যায় করা হবে। বাকি ৩০০ কোটি ডলার ব্যায় হবে অন্যান্য সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজে।

বাইডেন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসিকে এ সম্পর্কে বলেন, ৯/১১-র হামলাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা এবং কাকে কত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে তা চুড়ান্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আদালতে সেই তালিকা পাঠানোও হয়েছে। আদালত সম্মতি দিলেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজ শুরু হবে।

আরো পড়ুন: ১০ তলা থেকে সন্তানকে শাড়িতে বেঁধে ঝোলালেন মা!

এদিকে, আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন তালেবান মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘চুরি’ ও ‘আদর্শগত অবক্ষয়’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

কাতারে তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাঈম শুক্রবার এক টুইটবার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এটি একেবারেই স্পষ্ট একটি চুরি এবং আদর্শগত বিচ্যুতি চরম পর্যায়ে গেলেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব।

আফগানিস্তানের অর্থনীতি ব্যাপকভাবে বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর; কিন্তু গত বছর ১৫ আগস্ট তালেবান বাহিনী জাতীয় ক্ষমতা দখলের পর দেশটিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা দেশগুলো।

ফলে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগস্ত হয় দেশটির অর্থনীতি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের এক তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে আছেন এবং ২০২২ সালের মাঝমাঝি সময়ের মধ্যে এই হার আরও বাড়বে।

বাইডেন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে থাকা সাধারণ আফগানদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য ৩৫০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে মার্কিন সরকার, কিন্তু সেই ডলার পাঠানোর ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

তালেবান সরকারের কাছে এই অর্থ স্থানান্তর করতে চাইছে না যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু তার বিকল্প হিসেবে কোন সংস্থার কাছে অর্থ পাঠানো হবে- সে সিদ্ধান্তও এখনও নিতে পারেনি বাইডেন প্রশাসন।

আরো পড়ুন: ইউক্রেন সীমান্তে আরও রুশ সেনা মোতায়েন

বিবিসিকে ওই কর্মকর্তা বলেন, এক মাস আগেই মার্কিন কেন্দ্রীয় বিচার বিভাগ আফগানিস্তানে সেই অর্থ পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে, কিন্তু কোন সংস্থার ঠিকানায় অর্থ পাঠানো হবে- সে বিষয়ক কোনো সিদ্ধান্ত এখনও প্রশাসন নিতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলা চালায় আল কায়েদা নামের একটি বৈশ্বিক ইসলামি জঙ্গি সংগঠন। আর আল কায়েদার প্রধান সৌদি আরবের নাগরিক ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছল সেসময় আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তালেবান। তার জেরেই আফগানিস্তানে হামলা চালায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০ বছর ধরে যুক্তারাষ্ট্র আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। অবশেষে গত বছর আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যায় মার্কিন সেনারা। ফলে পুনরায় তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে।

সূত্র: আল জাজিরা

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!