এক টুইট বার্তায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, রুশ সেনারা কিয়েভের পার্লামেন্ট থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার উত্তরের শহর ওবোলনে ঢুকে পড়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই টুইট বার্তায় রুশ সেনাদের ‘শত্রু’ হিসেবে উল্লেখ করে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, তারা যেন মলোতভ ককটেল তৈরি করে পাল্টা লড়াই শুরু করেন। সেই সঙ্গে অন্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাসায় থাকলেও বের হতে বারণ করা হয়েছে।
.png)
এর আগে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে, রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠে দিমার ও ইভানকিভ এলাকায় সংঘর্ষ চলছে। ওই এলাকায় রাশিয়ার বেশ কিছু সাঁজোয়া যান ঢুকে পড়েছে। রুশ সেনারা কিয়েভের খুব কাছে পৌঁছে গেছেন। ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ভাদিম দেনিসেনকো রয়টার্সকে বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়া ৩৩টি বেসামরিক জায়গায় হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেন সেনাবাহিনী এর আগে ফেসবুক পেজের পোস্টে বলেছে, কিয়েভের উত্তর– পশ্চিমে রুশ সেনাদের প্রতিহত করতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেনের সেনারা। রাশিয়ার সেনাবাহিনী যাতে কিয়েভের দিকে আর এগোতে না পারে সে জন্য তেতেরিভ নদীর সীমান্তবর্তী একটি সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে ইউক্রেনের সেনারা।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী আগে জানিয়েছে, কিয়েভের একটি বিমানঘাঁটি নিজেদের দখলে রেখেছে। এই বিমানঘাঁটি দখলে নিলে রুশ সেনাবাহিনীর কিয়েভে ঢোকা সহজ হবে।
কিয়েভে সংবাদ সংগ্রহের কাজ করছেন বিবিসির সাংবাদিক পল অ্যাডামস। তিনি জানিয়েছিলেন, রুশ সেনারা কিয়েভের দিকে যতই এগোচ্ছেন, গোলাগুলির শব্দ বাড়ছে।
ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অ্যান্তন হেরাসচেনকো সতর্কতা জারি করে বলেছেন, আজকের দিনটি খুবই কঠিন। রাশিয়ার সেনাবাহিনী উত্তর–পূর্ব ও উত্তর–পশ্চিম দিক দিয়ে কিয়েভে ঢোকার চেষ্টা করছে।
ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র ইউক্রেনস্কা প্রাভদা ওয়েবসাইটে রাশিয়ার হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গোয়েন্দা সংস্থার ওই সূত্র বলছে, রাশিয়া কিয়েভের বিমানবন্দর দখল করতে চায়। কিয়েভের বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা নষ্ট করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রাশিয়ার। মন্ত্রিসভা, পার্লামেন্টের মতো সরকারি ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেবে রাশিয়া। রাশিয়া জার্মানির মতো ইউক্রেনকেও পূর্ব ও পশ্চিম দুই ভাগে ভাগ করতে চায়। তবে গোয়েন্দা সূত্রটির দেওয়া এই তথ্যের বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে টেলিফোন করে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়াকে রক্ষায় আর কোন বিকল্প ছিল না।
এর আগে মস্কোর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। এর কয়েক মিনিট পরই ইউক্রেনে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একইসঙ্গে সেখানে ‘শান্তি ফেরাতে’ সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন। পুতিনের ঘোষণার পর সেখানে গোলাবর্ষণ আরও তীব্র হয়েছে।