পৃথিবীর বুকে যত অশান্তিই হোক না কেন মহাকাশে আপাতত সহযোগিতা ও শান্তির চিত্র। স্পেস স্টেশনে এখনও পাশাপাশি রাশিয়া, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র। মাধ্যকর্ষণের শূন্যতায় এখনও স্পর্শ করেনি বৈরিতা। সেখানে অস্থিত্বরক্ষায় একমাত্র সহযোগিতাই সম্বল।
এই মুহূর্তে মহাকাশে রয়েছেন সাত জন নভোশ্বর। তার মধ্যে দুজন রাশিয়ান, চারজন যুক্তরাষ্ট্রন এবং একজন ইওরোপের বাসিন্দা। যদিও পৃথিবীর যুদ্ধ ও তিক্ততার প্রভাবে মহাকাশ স্টেশনের ভবিষ্যতে তৈরি করেছে অনিশ্চয়তার মেঘ। একসঙ্গেই মহাকাশ গবেষণার কাজ করছেন তারা। মহাকাশ স্টেশনকে সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দেশই কাজ করে চলেছে। কিন্তু, যুক্তরাষ্ট্রর নতুন বিধিনিষেধের জেরে রাশিয়া সহযোগিতার সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো।
.png)
আরো পড়ুন>> ইউক্রেনে অস্ত্র ও ৫০০ সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্স
ইউক্রেনের উপর হামলা শুরু হতেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে একগুচ্ছ বিধিনিষেধ ও নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে মহাকাশ গবেষণা সংক্রান্ত সহযোগিতাও রয়েছে। আর তাতেই চটে আগুন রুশ মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র রসকসমসের মহানির্দেশক দিমিত্রি রোগোজিন। তার আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রর এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের কাজ ধাক্কা খাবে। গোটা প্রক্রিয়াটাই ধ্বংস হয়ে যাবে। যার জেরে ফল ভুগতে হবে যুক্তরাষ্ট্রর 'বন্ধু'দেরই।
আরো পড়ুন>> শহরে রুশ ট্যাঙ্ক বহরের প্রবেশ রুখতে ব্রিজসহ নিজেকে উড়িয়ে দিলেন ইউক্রেনের সৈনিক!
এমনকী, ভারতের উপর ৫০০ টনের ওই পরিকাঠামো ভেঙেও পড়তে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দিমিত্রি! যুক্তরাষ্ট্রর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আপনারা যদি আমাদের সহযোগিতা করতে না দেন, আমাদের নিষিদ্ধ করে দেন, তাহলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রকে কক্ষচ্যুত হওয়ার হাত থেকে কে বাঁচাবে? গোটা পরিকাঠামোটিই যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের উপর ভেঙে পড়ে, তার দায় কে নেবে?"
অন্যদিকে, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন বিধিনিষেধ জারি করলেও তাতে বেসামরিক ক্ষেত্রে যৌথ মহাকাশ সংক্রান্ত গবেষণা চালাতে রাশিয়ার কোনও সমস্যা হবে না। মহাকাশ স্টেশনের কাজ যাতে নিরাপদভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গেই লাগাতার যোগাযোগ রেখে চলেছে নাসা।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে