ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পুনরায় কারফিউ জারি
রুশ হামলা থেকে বাঁচতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পুনরায় কারফিউ জারি করেছেন শহরটির মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো।
সোমবার (২১ মার্চ) এক ঘোষণায় মেয়র বলেন, আজ রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৭টা পর্যন্ত এ কারফিউ বলবৎ থাকবে।
ক্লিটসকো বলেন, ‘মঙ্গলবার দোকান, ফার্মেসি ও পেট্রোল স্টেশন খুলবে না। আমি অ্যালার্ম বাজলে সবাইকে বাড়িতে থাকতে বা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে অনুরোধ করছি।’
.png)
এর আগে কিয়েভে ফের বোমা হামলা চালিয়েছে রুশ সেনারা। এতে অন্তত ৪ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। কিয়েভের জরুরি সেবা বিভাগের বরাত দিয়ে সোমবার (২১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
গত শনিবার (১৯ মার্চ) কিয়েভের শহর কর্তৃপক্ষ জানায়, রাশিয়ার হামলার পর থেকে কিয়েভে ২২৮ জন নিহত হয়েছেন।
আরো পড়ুন>> ১৩২ আরোহী নিয়ে চীনে বিমান বিধ্বস্ত
উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কয়েক বছর আগে আবেদন করে ইউক্রেন। মূলত, এ নিয়েই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এর মধ্যে ন্যাটো ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় দ্বন্দ্বের তীব্রতা আরও বাড়ে। ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন প্রত্যাহারে ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগ থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রাখে মস্কো। কিন্তু এই কৌশল কোনো কাজে না আসায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। ঠিক তার দুদিন পর ২৪ তারিখ ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে।
এ দিকে চলমান এই যুদ্ধে এরইমধ্যে ইউক্রেন ছেড়েছেন প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ। যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৩শ’ সেনা নিহত এবং রাশিয়ার ১৪ হাজার ৭০০ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে তাদের প্রায় ৫০০ সৈন্য নিহত এবং ইউক্রেনের আড়াই হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ অভিযানে ইউক্রেনে ৯০২ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা