বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দাবি করছে, রুশ বাহিনীরা ইউক্রেনে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসকদের ওপর ৭০টির বেশি পৃথক হামলা চালিয়েছে, যা ক্রমেই বাড়ছে। এছাড়া ইউক্রেনের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে হামলায় এখন পর্যন্ত হয়েছে নিহত অন্তত ৭১ জন। আহত হয়েছে ৩৭ জন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউক্রেনের প্রতিনিধি বলছেন, প্রতিদিন যেভাবে রুশ হামলা বাড়ছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো চিকিৎসক ও সেবিকাদের জন্য নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত।
.png)
আরো পড়ুন: ইউক্রেনে অভিযানের প্রথম পর্যায় শেষ: রাশিয়া
উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ২০০৮ সাল থেকে আবেদন করে ইউক্রেন। মূলত, এ নিয়েই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তবে সম্প্রতি ন্যাটো ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় দ্বন্দ্বের তীব্রতা আরো বাড়ে। ন্যাটোর সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ করতে যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগ থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রাখে মস্কো। তবে এই কৌশল কোনো কাজে না আসায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। ঠিক তার দুদিন পর ২৪ তারিখ ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে।
এদিকে চলমান এই যুদ্ধে এরইমধ্যে ইউক্রেন ছেড়েছেন প্রায় ৩৯ লাখ মানুষ। যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৩শ’ সেনা এবং রাশিয়ার ১৬ হাজার ১০০ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে তাদের এক হাজার ৩৫১ সেনা নিহত এবং ইউক্রেনের আড়াই হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ অভিযানে ইউক্রেনের এক হাজার ৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
সূত্র : বিবিসি