রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এরই মধ্যে তাইওয়ানের কাছ থেকে কৃষি বিষয়ক দ্রব্য আমদানি এবং বালু রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন। একইসঙ্গে তাইওয়ানের ১০০ বেশি খাদ্যের ব্র্যান্ডকে পুনরায় নিবন্ধন না দিতে কালো তালিকাভুক্ত করেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
তাইওয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, চীনের কিছু সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা তাইওয়ানের ১২ মাইল সমুদ্র এবং আকাশজুড়ে করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ অবস্থান ঘিরে একজন সিনিয়র প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, তাইওয়ানকে আকাশ ও সমুদ্রপথে ঘেরা করা হচ্ছে।
.png)
চীনের দফায় দফায় হুঁশিয়ারি ও হুমকির পরও ন্যান্সি পেলোসি কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলসহ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কোনো প্রকাশ সফর সূচি ছাড়াই তাইওয়ানে পৌঁছান। এ সফরকে তাইওয়ানের গণতন্ত্রের প্রতি প্রতিজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দেখাচ্ছেন প্যালোসি।
প্যালোসি বলেন, অন্যান্য সময়ের চেয়ে এখন তাইওয়ানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রাতৃত্ববোধ অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা এ বার্তা দিতেই আজ তাইওয়ানে এসেছি।
তাইওয়ানের পার্লামেন্টে রাখা বক্তৃতায় প্যালোসি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন আইন করতে যাচ্ছে। সেই আইনের লক্ষ্য হচ্ছে চীনের সঙ্গে চিপ শিল্পের প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করা। আর এটি যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ান অর্থনীতি সমন্বয়ের একটি বিশাল সুযোগ।
প্যালোসি তাইয়ানের প্রেসিডেন্ট তিসাই ইন ওয়েনকে বলেন, আপনার নেতৃত্বকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। আমরা আপনাদের বৈশ্বিক স্বীকৃতি চাই।
চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে দীর্ঘদিনের সমালোচক প্যালোস বুধবার সাবেক তাইনামিন কর্মীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, যিনি এতদিন চীন সরকারের অধীনে বন্দি ছিলেন।
এর আগে, সবশেষ ১৯৯৭ সালে নিউট গিনরিচ নামের যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ স্পিকার তাইওয়ান সফর করেছিলেন। কিন্তু প্যালোসির এ সফর চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দ্রুত বিরোধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
চীন গত ২৫ ধরে বিশ্বে শক্তিশালী অর্থনীতি, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সব সময় শক্তি প্রয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে।