সৌভাগ্যবশত ওই মহাসড়কে সরকারের একটি উদ্ধারকারী দল উপস্থিত থাকায় বাকি যাত্রীরা রক্ষা পেয়েছেন। নিখোঁজ যাত্রীদের কোনো খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মেহার এলাকার মহাসড়কে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর জিইও টিভির।
.png)
গত সপ্তাহের শেষদিকে টানা প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের ফলে সৃষ্ট নজিরবিহীন বন্যায় সিন্ধু প্রদেশের বহু এলাকা এবং অধিকাংশ সড়ক-মহাসড়ক এখনো পানির নিচে রয়েছে। যে কয়েকটি মহাসড়ক এতদিন বন্যার পানিমুক্ত ছিল, সেসবের মধ্যে মেহারের এ মহাসড়কটি অন্যতম।
মঙ্গলবার সেই মহাসড়টিও ডুবে গেল। এরই মধ্যে সেই সড়কে যান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কৃর্তপক্ষ। সোমবার সিন্ধু প্রদেশেই বন্যার্তদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে ১৩ জন নিহত হন।
গত তিনদিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা শুরু হয়েছে পাকিস্তানের তিন প্রদেশ সিন্ধু, খাইবার পাখতুনওয়া ও বেলুচিস্তানে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী— বন্যায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১ হাজার ১৩৬ জন, আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৫৭৫ জন।
গত কয়েক দিনে পাকিস্তানে মারা গেছে ৭ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৮টি গবাদি পশু, ৯ লাখ ৯২ হাজার ৮৭১টি বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশটির এক তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যার পানির নিচে। সিন্ধু, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনওয়ার লাখ লাখ মানুষ বর্তমানে খাদ্য ও আশ্রহীন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
পাকিস্তানের ৬৬টি জেলাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দুর্যোগের শিকার’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বেলুচিস্তানের ৩১টি, সিন্ধ প্রদেশের ২৩টি, খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) নয়টি এবং পাঞ্জাবের তিনটি জেলা রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দুর্যোগ-ঘোষিত জেলার সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।