ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

পরমাণু বোমা থেকেও হাজার গুণ বেশি বিধ্বংসী আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:৩৬, ১৮ জুন ২০২৩
পরমাণু বোমা থেকেও হাজার গুণ বেশি বিধ্বংসী আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত - ফাইল ছবি

মহাবিধ্বংসী পরমাণু, আনবিক ও হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণের ভয়াবহতা থেকেও কয়েক হাজার গুণ বেশি বিধ্বংসী আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত। এমনটি দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীরা।

২০২২ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ টোঙ্গার উপকূলে হুনগা টুঙ্গা আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত সারা বিশ্বে পাঁচবার অনুভূত হয়। শেষ বারের বিস্ফোরণ এততাই ভয়াবহ ছিল যে তা থেকে যে পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়েছিল তার পরিমাণ ছিল ১৫ মেগাটন টিএনটি।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, টোঙ্গার অগ্ন্যুৎপাতের তীব্রতা ১৯৪৫ সালে হিরোশিমায় ফেলা পরমাণু বোমার চেয়ে এক হাজার গুণ বেশি ছিল। 

Advertisement

১৮৮৩ সালের ২৭ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ধ্বংসাত্মক শক্তিকে (২০ হাজার মেগাটন টিএনটি) তুলনা করা হয় হিরোশিমার যুক্তরাষ্ট্রের ছোড়া আনবিক বোমার বিস্ফোরণের চেয়ে ১০ হাজার গুণ বেশি।

নাসার গডডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের প্রধান বিজ্ঞানী জিম গারবিনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় জানিয়েছেন, টোঙ্গার অগ্ন্যুৎপাতের ঘনকালো মেঘমালা আর উত্তপ্ত লাভার অংশ ৭৫ কিলোমিটার উপর (স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার) পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছিল। ৫০০ মাইল দূরের ফিজি দ্বীপের মাটি ও ঘরবাড়ি কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত কেঁপেছিল।

বিস্ফোরণের আওয়াজ সুদূর আলাস্কা থেকে শোনা গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত শতকে এটি ছিল পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রকাণ্ড শব্দ।

১৮৮৩ সালে ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের প্রকান্ড শব্দকেও ছাড়িয়ে যায় টোঙ্গার সনিক বুম সাউন্ড।

অগ্ন্যুৎপাতের ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে টোঙ্গার রাজধানী নুকুআলোফার উত্তরে একটি দ্বীপকে পুরোপুরি বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলেছিল। অন্য দুটি দ্বীপের বড় অংশ বিলীন হয়ে যায়। সেই সঙ্গে ম্যাঙ্গো নামের আরেকটি বিধ্বস্ত দ্বীপের বাসিন্দাদের অন্য আরেকটি দ্বীপে সরিয়ে নেয়া হয়।

আগ্নেয়গিরির গ্যাসে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ক্যামেরুনে ১৯৮৬ সালে। সেসময় লেক নয়েজ আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডে প্রাণ হারায় দেড় হাজারের মতো মানুষ।

১৯৮০ সালে মাউন্ট হেলেনসের অগ্ন্যুৎপাতের নির্গত হয়েছিল ২৪ মেগাটন টিএনটি শক্তি। আর ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়ার শক্তি ছিল রেকর্ড ২০০ মেগাটন টিএনটি।

আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পিরোক্লাস্টিক প্রবাহে রোমান নগরী পম্পেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ৭৯ খৃস্টাব্দে। এই একই প্রবাহে ১৯০২ সালে একটি ক্যারিবীয় দ্বীপে নিহত হয় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

১৮৮৩ সালের ২৭ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। আগ্নেগিরীয় ছাইকুণ্ডলী, জ্বালামুখ থেকে বের হয় জ্বলন্ত পাথরখণ্ড, উত্তপ্ত গ্যাস উর্ধ্বাকাশের ৫০ মাইল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। কয়েকদিনের ব্যবধানে এর ছাই ও ধোয়ার কুণ্ডলী সারা পৃথিবীতে দেখা যায়। এর বিকট শব্দ ২,৮০০ মাইল দূরের অস্ট্রেলিয়া উপকূলে শোনা যায়। এর পরপরই সুনামির আঘাতে প্রাণ হারায় ১০ হাজার মানুষ।

এই ভূমিকম্পের ধ্বংসাত্মক শক্তিকে (২০ হাজার মেগাটন টিএনটি) তুলনা করা হয় হিরোশিমার যুক্তরাষ্ট্রের ছোড়া আনবিক বোমার বিস্ফোরণের চেয়ে ১০ হাজার গুণ বেশি।

বিশ্বের সবচেয়ে বিধ্বংসী বোমা

হিরোশিমায় নিক্ষেপ করা পরমাণু বোমার ধ্বংস ক্ষমতা ছিল ১৫ মেগাটন। আর পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ংকর বোমা ‘জার বোম্বা’ যা ১৯৬১ সালে রাশিয়া পরীক্ষা করেছিল তার শক্তি ছিল ৫০ মেগাটন টিএনটি। যা হিরোশিমার বোমার চেয়ে ছিল ৩,৮০০ গুণ বেশি বিধ্বংসী।

পরমাণু বোমার ভয়াবহতা

৭৭ বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আগস্টের ৬ এবং ৯ তারিখে জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বে সেই প্রথম কোন যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল এই গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র।

ধারণা করা হয় হিরোশিমা শহরের সাড়ে তিন লাখ মানুষের মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ কেবল বোমার বিস্ফোরণেই মারা যায়। আর নাগাসাকিতে মারা যায় ৭৪ হাজার মানুষ।

কিন্তু পরমাণু বোমার তেজস্ক্রিয়তার শিকার হয়ে পরবর্তী সপ্তাহ, মাস এবং বছরগুলোতে আরও বহু মানুষ মারা গিয়েছিল।

হিরোশিমায় যে বোমাটি ফেলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তার নাম দিয়েছিল 'লিটল বয়।' এটির শক্তি ছিল প্রায় ১২ হতে ১৫ হাজার মেগাটন টিএনটির বিস্ফোরণ ক্ষমতার সমান। পাঁচ বর্গমাইল এলাকা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল এটি।

সাধারণত ভয়াবহ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত প্রায় জনশূণ্য দ্বীপে হয়ে থাতে এতে করে প্রাণহানি অনেক কম হয়। তবে এমনসব অগ্ন্যুৎপাত যদি হিরোশিমা, নাগাসাকির মতো জনবসতিতে হতো তবে প্রাণহানি কতো হতো তা কম্পনার বাইরে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!