এরপর চারদিন আটলান্টিকের তলদেশে ব্যাপক তল্লাশির পর টাইটানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথা জানায় উদ্ধারকারীরা। একই সঙ্গে পাঁচ আরোহীর একসঙ্গে মৃত্যুর কথাও জানানো হয়।
ডুবোযান টাইটানে পাইলটসহ যে পাঁচ জন পর্যটক ছিলেন তাদের মধ্যে দুইজন হলেন- পাকিস্তানি বংশোদ্ভূদ ব্রিটিশ ধনকুবের ব্যবসায়ী শাহজাদা দাউদ ও তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে শাহজাদা দাউদ। কিন্তু টাইটান দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে দু’জনই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছেন।
.png)
বাবা-ছেলের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছে শাহজাদার স্ত্রী ক্রিস্টিনের লেখা পুরোনো এক ব্লগ। সেখানি তিনি লিখেছেন, ২০১৯ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে ফিরেছিলেন শাহজাদা। টাইটান দুর্ঘটনার পর সেই ব্লগ নিয়ে আবারো আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
ওই ব্লগে ক্রিস্টিন জানিয়েছেন, ‘তারা যে বিমানে সপরিবার উঠেছিলেন, সেটি মাঝ আকাশ থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীচের দিকে নেমে আসছিল। সে এক ভয়ানক মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন তিনি এবং শাহজাদা।’
ক্রিস্টিন আরো লিখেছেন, তার স্বামী নানা রকম অ্যাডভেঞ্চার অভিযানে বহুবার গিয়েছেন। কিন্তু ওই পরিস্থিতিতে রুদ্ধশ্বাস অভিযানে যাওয়া মানুষটিও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। পরে ক্রিস্টিনকে শাহজাদা বলেছিলেন, ওই মুহূর্তেও তার আফসোস হচ্ছিল যে, বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে, তার অনেক অভিযানই অপূর্ণ থেকে যাবে। তবে বিমানটি কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছিল সেটি তার ব্লগে উল্লেখ করেননি ক্রিস্টিন।
তবে টাইটানিক অভিযানের বিষয়টি নিয়ে অত্যুৎসাহী ছিলেন শাহজাদা। পুত্র সুলেমানের কল্পবিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ থাকায় শাহজাদা তাকেও এই অভিযানে নিয়ে যাওয়ায় আগ্রহী ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বোন আজমে দাউদ।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজমে জানান, ‘ফাদার্স ডে’র উপহার দিতে পুত্র সুলেমানকে এই অভিযানে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন শাহজাদা। কিন্তু সুলেমান এই অভিযানে যেতে ইচ্ছুক ছিলেন না। কিন্তু বাবাকে খুশি করতেই এই অভিযানে যান তিনি।