ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

সহিংস বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, গ্রেফতার ১৩০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:১৫, ১ জুলাই ২০২৩
সহিংস বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, গ্রেফতার ১৩০০
ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের গুলিতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। এরই মধ্যে দাঙ্গা ও সহিংসতায় রূপ নিয়েছে এই প্রতিবাদ। সেই দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে এক হাজার ৩০০’রও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ।

শনিবার (১ জুলাই) ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সহিংসতার পর এক হাজার ৩১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশের গুলিতে নিহত নাহেল নামের ওই কিশোরকে আজ কবর দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে নিহতের পরিবার ও বন্ধুরা।

Advertisement

গত মঙ্গলবার নাহেলকে গাড়ি থামাতে সংকেত দেয় প্যারিস পুলিশ। সে সংকেত না মানলে খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে পুলিশ। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কিশোরের। সেদিন রাত থেকেই গোটা ফ্রান্সজুড়ে শুরু হয় প্রতিবাদ বিক্ষোভ।

দাঙ্গা ও সহিংসতায় এখন পর্যন্ত দুই হাজার ৫৬০টি জায়গায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এক হাজার ৩৫০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৩৪টি বিল্ডিংয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তারা আরো বলছে, শুক্রবার রাতে ৭৯ জন পুলিশ আহত হয়েছে। ৫৮টি পুলিশ স্টেশনে হামলা হয়েছে।

ফরাসি সরকার অবশ্য দাবি করেছে, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সহিংসতা কমতে শুরু করেছে। যদিও কিছু ফরাসি বিদেশি অঞ্চলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। ফরাসি গায়ানায় গুলিতে নিহত হয়েছেন ৫৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি।

এর আগে শুক্রবার হালকা সাঁজোয়া যান নিয়ে অন্তত ৪৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে ফ্রান্স সরকার। তারপরও বিক্ষোভকারীদের দমানো যায়নি। লিয়ন, মার্সেই এবং গ্রেনোবল শহরে লুটপাট এবং ভবনে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার বেশ কয়েকটি এলাকায় দিনের বেলাতেও সহিংসতা দেখা গেছে।

পূর্বাঞ্চলীয় শহর স্ট্রাসবার্গে একটি অ্যাপল স্টোর লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। প্যারিস-এলাকার শপিং মলে একটি ফাস্ট ফুড আউটলেটের জানালা গুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।

দক্ষিণের বন্দর শহর মার্সেই-তে প্রবল বিক্ষোভ দেখা গেছে। আগুন লাগিয়ে দেয় এবং দোকান লুট করার ঘটনা ঘটেছে শহরটিতে। একটি বন্দুকের দোকানেও লুটপাট চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। পরে সেখান থেকে একজনকে রাইফেলসহ গ্রেফতার করা হয়।

মার্সেইয়ের মেয়র বেনোইট পায়ান বলেন, ‘লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনাগুলো একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।’

প্যারিসে পরিস্থিতি শান্ত দেখালেও লিয়ন শহরের কর্তৃপক্ষ জানায়, দাঙ্গাকারীরা শহরতলিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। শহরের কেন্দ্র থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় দোকান লুটপাটের চেষ্টা বন্ধ করতে ৩১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নিহত কিশোর নাহেলের পরিবারের সদস্যরা আলজেরিয়া থেকে গিয়ে ফ্রান্সে স্থায়ী হয়েছেন। তাদের আর্থিক অবস্থাও খুব ভালো নয়। প্যারিসের নানতের উপশহরটি মূলত দরিদ্র অধ্যুষিত এলাকা। সেখানেই মায়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি। নাহেল ও তার মা মৌনিয়া ইসলাম ধর্মাবলম্বী।

সূত্র: আল-জাজিরা

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!