ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

কেমন আছে ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জন্ম নেয়া সেই শিশু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:০৭, ৬ আগস্ট ২০২৩
কেমন আছে ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জন্ম নেয়া সেই শিশু
ছবি: সংগৃহীত

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে তুরস্ক ও সিরিয়া। এতে করে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় হাজার হাজার বাড়ি-ঘর ধসে পড়ে। ভবনের নিচে চাপা পড়ে ও আহত হয়ে ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। চারদিকে যখন শুধু হতাশার আর মৃত্যুর খবর তখনই সিরিয়ার জিন্দারিসে ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় এক মেয়ে শিশুকে।

উদ্ধারকারীরা সেখানে পৌঁছে দেখেন ধ্বংসস্তূপের নিচেই জন্ম হয়েছে ওই শিশুর। তখন শিশুটি মায়ের নাড়ির সঙ্গেও জোড়া লেগেছিল সে। ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে ভবন ভেঙে পড়ে শিশুটির মা-বাবা ভাই-বোন সবাই মারা গেলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় সে। পরবর্তীতে তাকে তুলে দেয়া হয় তার ফুফু হালা ও ফুফা খলিলের জিম্মায়। আর শিশুটির নাম রাখা হয় আফরা। বর্তমানে ফুফু ও ফুফার কাছেই বেড়ে উঠছে সে।

সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ৬ মাস পেরিয়েছে গেছে। সেই আফরাও পূর্ণ করেছে ৬ মাস। এখন মানুষকে দেখে হাসি দেয়া ও নিজের মতো খেলতে পারে।

Advertisement

সিরিয়ার জিন্দারিসে বসবাস করা আফরার ফুফা খলিল বলেছেন, আফরা খুবই ছোট। কিন্তু সে আমাকে তার বাবা ও তার বোন নাওয়ারার কথা মনে করিয়ে দেয়, বিশেষ করে তার হাসিটা তাদের মতো। তারাও ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছে। তারা আমাদের বাড়িতে প্রায়ই আসত… আফরা আমাদের একটুও জ্বালাতন করে না।

ভূমিকম্পের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে আফরাদের বাড়ি ধসে পড়লে সেখানে দ্রুত ছুটে যায় তার ফুফু। আফরার ফুফা খলিল সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমরা দেখতে পাই আফরাদের বাড়ি ধসে পড়েছে। আমার স্ত্রী- আমার ভাই, আমার ভাই বলে চিৎকার শুরু করে।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির ছাদটি তাদের ওপর ধসে পড়ে। কেউ একজন আমাকে ডাক দেয় এবং বলে তারা একজন নারীর মরদেহ পেয়েছে। আমি সেখানে যাওয়ার পরই মরদেহটি উদ্ধারে ধ্বংসস্তূপ খোড়া শুরু করি, তখনই কান্নার শব্দ শুনতে পাই। এটি ছিল আফরা, সে তখনো তার মায়ের নাড়ির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। আমরা তাকে বাঁচাতে বদ্ধপরিকর ছিলাম। কারণ আমরা জানতাম পরিবারের একমাত্র স্মৃতি হিসেবে শুধুমাত্র সেই থেকে যাবে।

সে সময় আফরাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তোলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে করে এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায় সে। শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রাথমিকভাবে তার নাম দেয়া হয় আয়া, যার অর্থ অলৌকিক।

ভূমিকম্পের পরপরই ধ্বংসস্তূপের ধুলোর কারণে তার বুকে কিছু সমস্যা হয়েছিল। আফরা বর্তমানে ভালো আছে জানিয়েছে তার ফুফা বলেছেন, আমি তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন আফরা পুরোপুরি সুস্থ আছে।

আফরাকে উদ্ধার করে যখন হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তখন তাকে দত্তক নিতে কয়েক হাজার মানুষ এগিয়ে আসেন। কিন্তু তার ফুফু হালা জানান আফরাকে তারাই বড় করবেন। তবে কর্তৃপক্ষ প্রথমে হালাকে বিশ্বাস করতে চায়নি। কিন্তু পরে ডিএনএ পরীক্ষার প্রায় ১০ দিন পর নিশ্চিত হয়ে ফুফু হালার কোলে তুলে দেয়া হয় আফরাকে।

আফরাকে নিতে মানুষের এত বেশি আগ্রহ ছিল যে খলিল এবং তার পরিবার ডিএনএ ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার সময় বেশ চিন্তিত ছিল। তাদের ধারণা ছিল কেউ তাকে অপহরণ করার চেষ্টা করতে পারে। তারা হাসপাতালে যতটা সম্ভব সময় কাটিয়েছে এবং অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে। আফরার ফুফা বলেন, বেসামরিক এবং সামরিক পুলিশ উভয়ই আমাদের তাকে রক্ষা করতে সাহায্য করেছে। তাদের মধ্যে অনেকে আফরার পাশের ঘরে থাকত এবং দিনরাত তার উপর নজর রাখত।

খলিল বলেন, সে এখন আমার সন্তানদের একজন। আমি তার সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটাতে পারি না। তিনি আরও বলেন, যখন সে বড় হবে, আমি তাকে বলবো কি ঘটেছে এবং তাকে তার মা, বাবা এবং তার ভাইবোনদের ছবি দেখাবো। আমরা তাদের পরের দিন হজ ইস্কান্দার নামে একটি কাছের গ্রামে কবর দিয়েছিলাম, যেখানে সিভিল ডিফেন্স গণকবর খনন করেছিল।

ধ্বংসস্তূপে আফরার জন্ম হওয়ার তিনদিন পর তার ফুফু হালার ঘর আলো করেও জন্ম হয় আরেকটি শিশুর। বর্তমানে অন্যান্য ফুফাত ভাই-বোনদের সঙ্গেই খেলাধুলা করে সময় কাটে তার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!