ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে গাজার অভ্যন্তরে আরো এগিয়ে যাচ্ছে। গাজার একটি আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি ট্যাংক পৌঁছানোর পর ভারী সংঘর্ষের কথা জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
প্যালেস্টাইনিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-এর একজন মুখপাত্র আল জাজিরাকে বলেন, তাদের দল বর্তমানে শরণার্থীশিবিরটিতে কাজ করছেন এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর চেষ্টা করছেন।
.png)
পরিস্থিতি একেবারেই ভয়ানক, রামাল্লা থেকে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যমটিকে বলেন নেবাল ফারসাখ। গাজা'র আটটি শরণার্থীশিবিরের মধ্যে সবচেয়ে বড় জাবালিয়া।
জাবালিয়ার বাসিন্দা রাগেব আকাল বিমান হামলাকে 'ভূমিকম্পের' সঙ্গে তুলনা করেছেন। হামলায় পুরো ক্যাম্প কেঁপে ওঠে বলে জানান তিনি।
'আমি বেরিয়ে দেখলাম সব বিধ্বস্ত… ধ্বংসস্তূপের নিচে বাড়িগুলো পড়ে রয়েছে আর বেশ বড় সংখ্যায় শরীরের বিচ্ছিন্ন অঙ্গ, নিহত ও আহতরা,' বলেন তিনি।
১ দশমিক ৪ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ শিবিরটিতে জাতিসংঘের তথ্যমতে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার নিবন্ধিত শরণার্থী রয়েছেন।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আগেও একাধিকবার এ শিবিরের ওপর আক্রমণ চালিয়ে কয়েকশ মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।
এদিকে, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর পর বুধবার প্রথমবারের মতো রাফাহ সীমান্ত খুলে দিয়েছে মিসর। এর পর থেকে বহু বিদেশি পাসপোর্টধারী গতকাল থেকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ছাড়তে শুরু করেছে। রাফাহ সীমান্ত দিয়ে ঠিক কতজন লোক চলে যেতে সক্ষম হয়েছিল, তা পরিষ্কার নয়। তবে ঘটনাস্থলের লাইভ ফুটেজে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনি দিকের টার্মিনাল দিয়ে বিপুলসংখ্যক লোক ঢুকছে।
এর আগে মিসর থেকে ২০০ টির বেশি ট্রাক জরুরি ত্রাণ নিয়ে গাজায় প্রবেশ করে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই অঞ্চলের কোনো লোককে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত শুধু বিদেশিদের জন্য ওই সীমান্ত খুলে দেওয়া হলো।
বুধবার ওই সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ব্যক্তির পার হওয়ার কথা ছিল। সেই সঙ্গে ৮৮ জন অসুস্থ ও আহত ব্যক্তিরও গতকাল গাজা ছাড়ার কথা ছিল। কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব বিদেশি পাসপোর্টধারীদের মধ্যে ৪৪ দেশের নাগরিক ছাড়াও জাতিসংঘসহ ২৮টি সংস্থার কর্মীরা রয়েছেন।