বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলার কুলাচি এলাকায় প্রথম ঘটনাটি ঘটে। এরপর এই এলাকা থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে আরো একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় পুলিশ প্রধান রউফ কায়সরানি জানিয়েছেন, কুলাচি একটি পুলিশ টহলকে লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। সেই ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্য দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে বন্দুকধারীরা গুলি করলে আরেক জন নিহত হন। অপর আরেক হামলার ঘটনায় দুই শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হন।
.png)
এর আগে, বুধবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বালুচিস্তানে নির্বাচনী প্রার্থীদের অফিসের কাছে দুটি বিস্ফোরণে অন্তত ২৬ জন নিহত হন। এই ঘটনার পর দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মোবাইল পরিষেবা স্থগিত ও সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বালুচিস্তানে বোমা হামলার দায় স্বীকার করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘দেশে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।’
বৃহস্পতিবার সকালে ভোট শুরু হওয়ার সাথে সাথে দেশজুড়ে বিভিন্ন সড়কে ও ভোট কেন্দ্রে হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে ইরান ও আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তানের সীমান্ত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
মাকরান বিভাগের কমিশনার সাইদ আহমেদ উমরানি বলেছেন, বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অংশেও গ্রেনেড হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে সেখানে কোনও হতাহতের ঘটনা না ঘটায় ভোটগ্রহণে প্রভাব পড়েনি।
এ ছাড়া উত্তর ওয়াজিরিস্তানের কিছু ভোট কেন্দ্র তালেবানের জঙ্গিরা দখলে নিয়েছে বলে সেখানকার প্রার্থীরা জানিয়েছেন। দেশটির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের এই এলাকার নির্বাচনী প্রার্থী মহসিন দাওয়ার পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের (ইসিপি) কাছে লেখা চিঠিতে বলেছেন, তার নির্বাচনী এলাকার কিছু ভোটকেন্দ্র স্থানীয় তালেবান জঙ্গিরা দখলে নিয়েছে; যারা ভোটার ও স্থানীয়দের ভোটের আগে থেকেই হুমকি দিয়ে আসছিল।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে দেশটির নির্বাচন কমিশন বা নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।
সূত্র: রয়টার্স