যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ইসরায়েলি প্রযুক্তি বিষয়ক এক আয়োজনে এ ঘটনা ঘটে বলে উঠে এসেছে সিএনবিসি’র প্রতিবেদনে।
অনলাইনে ভাইরাল হওয়া ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ক্যারোলিন হাস্কিনসের করা ভিডিওতে ওই প্রকৌশলীকে চিৎকার করে বলতে দেখা গেছে, ‘আমি গুগলের একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী। আর আমি এমন প্রযুক্তি তৈরি করতে চাই না যা গণহত্যা বা নজরদারি চালাতে পারে!’
.png)
নিরাপত্তা কর্মীরা দূরে টেনে নিয়ে যাওয়ার সময়, দর্শকদের ঠাট্টার মধ্যেও তিনি কথা বলতে থাকেন ও ‘প্রজেক্ট নিম্বাসে’র কথা উল্লেখ করেন। এটি সেই প্রকল্প যেখানে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে এআই ও বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ করার জন্য গুগল ও অ্যামাজন ১২০ কোটি ডলারের চুক্তি জিতেছিল।
গত বছর গুগলের একদল কর্মী একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে কোম্পানিকে প্রজেক্ট নিম্বাস বাতিল করার আহ্বান জানান। এছাড়া কোম্পানির মধ্যে আরব, মুসলিম ও ফিলিস্তিনি কর্মীরা যে ‘ঘৃণা, নিপীড়ন ও প্রতিশোধে’র স্বীকার হচ্ছে সেটিও চিঠিতে উল্লেখ ছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।
‘প্রজেক্ট নিম্বাস ফিলিস্তিনি মানুষদের বিপদে ফেলেছে! আমি এমন প্রযুক্তি তৈরি করতে অস্বীকার করছি যা ক্লাউড বর্ণবাদের জন্য ব্যবহার করা হবে,’ – বলেন ওই প্রকৌশলী।
‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রয়েছে এমন কোম্পানিতে কাজ করার ভাল অংশ হল, ভিন্ন ভিন্ন মতামতের জন্য মঞ্চ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।’ – ওই প্রকৌশলীকে সরিয়ে নেয়ার পরে বলেন রেগেভ।
দ্বিতীয় আরেকজন প্রতিবাদকারী বক্তৃতায় বাধা দিয়ে গুগলকে গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুললে রেগেভ তার বক্তব্য শেষ করেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট।
নিউ ইয়র্কে আয়োজিত ‘মাইন্ডদ্যটেক’ নামের ওই সম্মেলনে এ বছরের থিম বা মূলভাব ছিল ‘স্ট্যান্ড উইথ ইসরায়েলি টেক’ বা ইসরায়েলি প্রযুক্তির পাশে দাঁড়ান। এর অন্যতম কারণ, গত ৭ অক্টোবরে হামাসের আক্রমণের পর থেকেই ইসরায়েলে বিনিয়োগ কমেছে।
ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হাস্কিনস আয়োজনে যা দেখেছিলেন তার বিশদ বিবরণ লিখেছেন। তবে, তিনিও শেষ পর্যন্ত থাকতে পারেননি, কারণ তাকেও নিরাপত্তা কর্মীরা বের করে দিয়েছিলেন।
‘অন্যান্য গুগল ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ারদের জানাতে চাই ইঞ্জিনিয়ারিং দেখতে আসলে এমন — আপনার কাজের জন্য প্রভাবিত সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা।’ – হাস্কিনসকে বলেছেন ইভেন্টে বাধা দেওয়া গুগল প্রকৌশলী।
কর্মক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া এড়াতে তিনি বেনামে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে, স্পষ্টভাবেই তাকে গুগল খুঁজে বের করেছে।
এনগ্যাজটকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুগলের মুখপাত্র বলেছেন, ‘এ সপ্তাহের শুরুতে এক কর্মী আরেক সহকর্মীর বক্তৃতার মধ্যে বাধা দিয়েছেন। এ ঘটনা কোম্পানির স্পন্সর করা এক অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। তিনি যে সমস্যা নিয়েই কথা বলুন না কেন, তার এ পদ্ধতি ঠিক ছিল না। আমাদের নীতি লঙ্ঘনের জন্য তাকে ছাঁটাই করা হয়েছে।’