গত মঙ্গলবার (১৪ মে) দেশটির এক আদালত তাকে এই দণ্ড দেয় বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, অস্ট্রেলিয়া সরকার যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের চেয়ে ব্রাইডকে শাস্তি দিতে বেশি আগ্রহী।
.png)
সাবেক সামরিক আইনজীবী ম্যাকব্রাইডকে অস্ট্রেলিয়ার ‘প্রথম হুইসেলব্লোয়ার’ হিসাবে বর্ণনা করা হয়। তুলনা করা হয় উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা সাংবাদিক জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের সাথে।
২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো। ওই সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটিতে ৩৯ হাজার সেনা মোতায়েন করে অস্ট্রেলিয়া।
দীর্ঘ দুই দশকের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর ২০২১ তালেবান রাজধানী কাবুলের দখল নেয়ার এক মাস আগে ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে দেশটির সরকার।
ন্যাটো ও মার্কিন বাহিনীর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধেও আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘন, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠে। যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকায় ১৩ জন সেনাকেও বরখাস্ত করা হয়।
২০১৬ সালে ম্যাকব্রাইডের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবিসিতে ‘আফগান ফাইল’ নামে সাতটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়। ২০১৮ সালে তার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে কমনওয়েলথ নথি প্রকাশের সাথে সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
বিচার শুরু হলে ২০২৩ সালে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মঙ্গলবার সকালে ক্যানবেরা সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হন ম্যকব্রাইড। এ সময় আদালত তার জামিনের আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সেই সঙ্গে ১৩ আগস্ট ২০২৬ সালের আগ পর্যন্ত তাকে কোনো ধরণের প্যারোলে মুক্তি না দেয়ারও নির্দেশ দেয় কোর্ট। তবে আদালতের এ রায় ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছে।
আদালতের রায় ঘোষণার পর অস্ট্রেলিয়ার সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক রাওয়ান আরাফ এক প্রতিক্রিয়ায় রায়কে প্রতারণামূলক রায় বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এই রায় প্রতারণমূলক; যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্তদের সাজা না দিয়ে এখানে এমন একজনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে যিনি সত্য প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে এই রায়কে আস্ট্রেলিয়ার গণতন্ত্রের জন্য অন্ধকার দিন বলে উল্লেখ করেন মেলবোর্নের মানবাধিকার সংস্থার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক কিরান পেনডার।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ম্যাকব্রাইডকে কারাদণ্ডের মাধ্যমে সত্যকে ধামাচাপা দেয়ার নজির স্থাপন করেছে সরকার।