ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

চীনের ভোজ্য তেলে ভেজালের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:৫৬, ১১ জুলাই ২০২৪
চীনের ভোজ্য তেলে ভেজালের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

দুষণমুক্ত না করেই জ্বালানি তেল পরিবহনকারী ট্যাংকার ট্রাকে ভোজ্যতেল পরিবহন করা হয়েছে বলে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ ইস্যুতে চীনের সামাজিক যোগাযোগামাধ্যম ওয়েইবোতে সরকারের ব্যাপক সমালোচনা শুরু করেছেন দেশটির নেটিজেনরা। দেশটির সরকার বলেছে, তারা এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু করবে। 

চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদপত্র বেইজিং নিউজ জানিয়েছে, ভালোভাবে পরিষ্কার না করেই জ্বালানি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্যাঙ্কারগুলোতে ভোজ্যতেল ও সিরাপের মতো খাদ্যপণ্য পরিবহন করতে দেখা গেছে।

একজন ট্যাঙ্কার চালকের বরাত দিয়ে সংবাদপত্রটি আরো বলেছে,  দূষিত জ্বালানি বহনকারী ট্র্যাকগুলোতে ভোজ্যতেল পরিবহন খুবই সাধারণ বিষয় হয়ে পড়েছিল। তাই একে ‘ওপেন সিক্রেট’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তেল নিয়ে এই বিতর্ক চীনা সোশ্যাল মিডিয়ার শীর্ষ ট্রেন্ডিং-এ উঠে এসেছে।

Advertisement

ভোজ্যতেল নিয়ে বিতর্ক শুরুর পর বলা হচ্ছে, চীনের একাধিক বড় বড় কম্পানিও এ ঘটনায় জড়িত। যেমন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সিনোগ্রেইনের একটি সহায়ক সংস্থা এবং হোপফুল গ্রেইন অ্যান্ড অয়েল গ্রুপ।

সিনোগ্রেইন জানিয়েছে,  খাদ্য নিরাপত্তা বিধি সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কিনা সেটা তারা তদন্ত করে দেখছে। যেসব ট্রাক নিয়ম ভঙ্গ করেছে, তাদের অবিলম্বে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তবে চীনা সরকার বলেছে, দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারা এই অভিযোগের তদন্ত করবেন। অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত সকল কম্পানি ও ব্যক্তিকে শাস্তি আওতায় আনা হবে। তারা জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছে, তদন্তের ফলাফল অবিলম্বে প্রকাশ করা হবে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি সিসিটিভি বলেছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অবৈধ ব্যক্তিদেরকে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে এবং এ ধরনের ঘটনা সহ্য করা হবে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সের (সাবেক টুইটার) মতো ওয়েইবো চীনের একটি মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম। দেশটিতে চলমান এই তেল কেলেঙ্কারি নিয়ে ওয়েইবোতে কয়েক হাজার পোস্ট করেছে ব্যবহারকারীরা, যা লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখেছে। খাদ্য নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- এই মন্তব্যে আট হাজারের বেশি লাইক পড়েছে।

একজন ব্যবহারকারী বলেছেন, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটাই এক বিস্ময়কর বিষয়। অনেকে এটিকে ২০০৮ সালের সানলু গুঁড়াদুধ কেলেঙ্কারির সঙ্গে তুলনা করেন।

শিল্প কারখানার উচ্চ মাত্রার রাসায়নিক মেলামাইন মিশ্রিত ওই দূষিত গুঁড়াদুধ পান করার কারণে প্রায় তিন লাখ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছিল এবং এ ঘটনায় কমপক্ষে ছয়জনের মৃত্যু হয়। একজন ওয়েইবো ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, এ ঘটনা সানলু কেলেঙ্কারির চেয়েও ভয়াবহ। কেবলমাত্র বিবৃতি দিয়ে এর নিষ্পত্তি করা যাবে না। 

চীনে ট্যাঙ্কারে পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট পণ্যের তালিকা নেই।  অর্থাৎ কেবলমাত্র নির্দিষ্ট একটি বা দুইটি পণ্য পরিবহন করা যাবে, তেমন কোনো নিয়ম নেই। সে ক্ষেত্রে, কয়লাভিত্তিক তেল পরিবহনের পর পরই ওই ট্যাঙ্কারে সরাসরি খাদ্য পরিবহন করতে বাধা নেই।

সূত্র : বিবিসি

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
ট্যাগ: চীন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!