জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন (এফএফএম) ২০১৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক রিপোর্টের বরাত দিয়ে মার্কিন কংগ্রেস বলেছে, মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল কারণ দায়মুক্তি।
২০১৭ সালের আগস্ট থেকে বার্মার সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা ও গণহত্যা চালানোর প্রতিবাদে ২০১৮ সালের ১৩ ডিসেম্বর মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এইচ.রেস.১০৯১ বিলটি পাস করে।
.png)
২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে এফএফএম বলে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যামূলক কর্ম ঘটতে পারে বা পুনরাবৃত্তি হতে পারে- এমন একটি গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী দেশটির গণতন্ত্রে উত্তরণকে লাইনচ্যুত করে এবং জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে একটি অভ্যুত্থান পরিচালনা করে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এবং কিছু স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধ ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে। রাখাইন রাজ্যে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা উচ্চ ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে। নির্বিচারে গ্রেফতার ও আটক, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং হত্যার মাধ্যমে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গাদের লক্ষ্যবস্তু করে চলেছে।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে অবস্থান করছে। ২০১৭ সাল থেকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রায় ২.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ প্রদান করেছে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য এবং জাপান।
২০২২ সালের মার্চ মাসে রোহিঙ্গা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্পের পরেও ক্রমবর্ধমান চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়ন হ্রাস পেয়েছে।
মার্কিন সহায়তা মানবিক অর্থায়ন এবং অল্প সংখ্যক রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের পথ খোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই সমর্থনে রোহিঙ্গা গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং কয়েক দশকের কৌশলগত নিপীড়ন, প্রান্তিককরণ এবং সামরিক দায়মুক্তি কাটিয়ে উঠতে রোহিঙ্গাদের সমর্থন করার ক্ষেত্রে একটি সর্বাত্মক পদ্ধতির অভাব রয়েছে। পরিস্থিতি যেন আরো দীর্ঘায়িত না হয়, সেজন্য রোহিঙ্গা সংকট এবং বৃহত্তর বার্মা সংকটকে একই সঙ্গে সমাধান করতে হবে, ধারাবাহিকভাবে নয়।
এইচআর ৮৯৩৬ হলো দ্বিদলীয় রোহিঙ্গা গ্যাপ আইন। আইনটি সামগ্রিক মার্কিন নীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে সমর্থন করবে এবং গণহত্যা থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করবে।
আইনের হাইলাইটস:
> রোহিঙ্গা নীতি সমন্বয়ের জন্য মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে রোহিঙ্গা নৃশংসতা প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়ার জন্য একটি বিশেষ সমন্বয়কারীর পদবি অনুমোদন করে।
> রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা প্রচেষ্টা, বার্মায় নিরাপত্তা, স্বেচ্ছায় টেকসই প্রত্যাবাসনের সুবিধার্থে রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, একটি ব্যাপক অন্তর্বর্তীকালীন বিচার কৌশল বিকাশ, মৌলিক চাহিদা, জীবিকাসহ মানবিক সহায়তা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও পাচার প্রতিরোধ এবং রোহিঙ্গা নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর প্রতি সমর্থনে একটি সামগ্রিক মার্কিন কৌশলের আহ্বান জানানো হয়েছে।
> বাংলাদেশের ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যেন খাদ্য ও পুষ্টির ন্যূনতম মান পূরণের জন্য পর্যাপ্ত রেশন পায় তা নিশ্চিত করার জন্য ইউএসএআইডি এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
> ২০৩০ সালের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা বৃত্তি অনুমোদন।
> বার্মার চলমান সহিংসতার ওপর নজরদারি ও রিপোর্ট করার জন্য বার্মার জন্য একটি নতুন কনফ্লিক্ট অবজারভেটরি প্রতিষ্ঠা।
> নৃশংসতা অপরাধের তদন্ত, ডকুমেন্টেশন, কেসওয়ার্ক, ট্রানজিশনাল জাস্টিস এবং জবাবদিহিতা পদ্ধতিতে সহায়তা করার জন্য স্টেট ডিপার্টমেন্টের জন্য পাঁচ বছরের জন্য প্রতি বছর ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুমোদন, সাক্ষী সুরক্ষা ব্যবস্থা, এবং রোহিঙ্গা সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত সহায়তা।
বেশকিছু রোহিঙ্গা এবং মানবাধিকার সংস্থা এইচআর ৮৯৩৬ সমর্থন করে, যার মধ্যে রয়েছে-
> অ্যালায়েন্স ফর পিচবিল্ডিং, ক্যাম্পেইন ফর অ্যা নিউ মিয়ানমার, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, জ্যাকব ব্লাস্টেইন ইনস্টিটিউট, জিউস ওয়ার্ল্ড ওয়াচ, পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল অ্যান্ড পলিসি গ্রুপ, দ্যা সেন্ট্রি, উইমেনস পিচ নেটওয়ার্ক, আমেরিকানস ফর রোহিঙ্গা, রিফউজি ইন্টারন্যাশনাল ও ইউএস ক্যাম্পেইন ফর বার্মা।