গত সপ্তাহে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে কুরস্ক অঞ্চলে প্রবেশ করে। গত আড়াই বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেন এই প্রথম রাশিয়ায় সবচেয়ে বড় আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে।
কমান্ডার অলেকজান্ডার সিরস্কি বলেছেন, ইউক্রেন কুরস্ক অঞ্চলে আক্রমণাত্মক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
.png)
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া অন্যদের জন্য যুদ্ধ এনেছিল এবং এখন আবার রাশিয়ার কাছেই ফিরে যাচ্ছে।
ইউক্রেনকে রাশিয়ায় অনুপ্রবেশের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পুতিনের।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হওয়া বৈঠকে তিনি বলেন, শত্রুদের আমাদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়াই এখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ। আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থানকে একটু উন্নত করাই ইউক্রেনের এমন আক্রমণের কারণ বলে মত দেন তিনি। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ইউক্রেন এর যোগ্য জবাব পাবে।
জানা গেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চল থেকে বড়সংখ্যক বেসামরিকদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৯ হাজার রুশ অধিবাসীকে অঞ্চলটি ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিনি অনুরূপ ক্ষেপণাস্ত্রও সতর্কতা জারি করেছেন এবং লোকদের তাদের বেসমেন্টে আশ্রয় নিতে বলেছেন।
স্থানীয় গভর্নর বলেছেন, কুরস্কের প্রায় ২৮টি গ্রাম ইউক্রেনীয় বাহিনীর দখলে। এ পর্যন্ত ১২ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন এবং পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত কঠিন। ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এখনো দুই হাজার রুশ নাগরিক রয়ে গেছে।
তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা তিনি জানেন না বলেও মন্তব্য করেন। এ ছাড়া তিনি মিসাইল থেকে নিরাপদ থাকতে জানালা ছাড়া এবং শক্ত দেয়ালের ঘরে আশ্রয় নিতে লোকদের সতর্ক করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্রিটিশ সামরিক সূত্র বিবিসিকে বলেছে যে ইউক্রেনের এই অভিযানের ফলে মস্কো এতটাই ক্ষুব্ধ হবে যে ইউক্রেনের বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ দ্বিগুণ করতে পারে রাশিয়া।
গত মঙ্গলবার থেকে সীমান্ত পেরিয়ে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে আকস্মিক হামলা চালায় ইউক্রেনের সেনারা। এদিন থেকে দুই পক্ষের তুমুল লড়াই চলছে।