আমিরাত ও কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা, বাংলাদেশিসহ নিহত ৪
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অন্তত চারজন নিহত এবং ৯০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই আক্রমণ চালায়।
রোববার (১ মার্চ) সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিপুলসংখ্যক প্রক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত ও ধ্বংস করেছে।
এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩১১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। আরো আটটি ক্ষেপণাস্ত্র সাগরে পড়ে যায়, আর ২১টি ড্রোন বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানে, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে নিক্ষেপ করা মোট ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫৪১টি ড্রোন শনাক্ত করে। এর মধ্যে ১৫২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৫০৬টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে ৩৫টি প্রক্ষেপণাস্ত্র দেশের ভূখণ্ডে আঘাত হানে, যার ফলে সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, নিহত তিনজন পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের নাগরিক। এছাড়া বিভিন্ন দেশের ৫৮ জন ব্যক্তি হামলায় আহত হয়েছেন।
অন্য এক বিবৃতিতে কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সেখানে একজন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর পরিস্থিতির এই উত্তেজনা শুরু হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ইরানি নেতা নিহত হন। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং উপসাগরীয় কয়েকটি দেশকে লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অনুরূপ যৌথ হামলার পর ১২ দিনব্যাপী সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সর্বশেষ এই হামলা সেই সংঘাতের পর বৈরিতার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি