ইরানের তেলক্ষেত্র খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা
ইরানের তেলসমৃদ্ধ খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডাগামী এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।
পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কিছুক্ষণ আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপে থাকা সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে তিনি জানান, দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপদ ও মুক্ত পথ ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।
এ সময় ট্রাম্প ইরানকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বানও জানান। তিনি বলেন, দেশটির যা অবশিষ্ট আছে- যদিও তা খুব বেশি নয়; তা রক্ষা করতে এখনই অস্ত্র সমর্পণ করা উচিত।
কেন গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ
খারগ আইল্যান্ড প্রায় পাঁচ মাইল দীর্ঘ একটি দ্বীপ, যা ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত। এটি ইরানের তেল রফতানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। অনেকেই একে দেশটির ‘তেলের লাইফলাইন’ বলে থাকেন।
দ্বীপটিতে জনসংখ্যা খুব বেশি না হলেও ইরানের রফতানিযোগ্য অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ এখান থেকেই পরিবহন করা হয়। বড় তেলবাহী ট্যাংকারগুলো প্রথমে এই দ্বীপে তেল বোঝাই করে, পরে পারস্য উপসাগর পেরিয়ে হরমুজ প্রণালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে দেয়।
ইরানি তেলের বড় ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে চায়না। ফলে খারগ দ্বীপে কার্যক্রম ব্যাহত হলে তা সরাসরি ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র: বিবিসি