ঢাকা,  রোববার   ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান ও বাসিজ বাহিনীর প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:১৩, ১৭ মার্চ ২০২৬
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান ও বাসিজ বাহিনীর প্রধানকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের
আলি লারিজানি ও গোলামরেজা সোলেইমানি - ফাইল ফটো

ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় ইরানের দুইজন অত্যন্ত প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে—যা সত্য হলে চলমান সংঘাতে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে তেহরান এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে না নিশ্চিত করেছে, না অস্বীকার করেছে।

মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা দেন যে দেশটির বাহিনী ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানিকে হত্যা করেছে। পৃথক এক বিবৃতিতে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিমানবাহিনী “তেহরানের কেন্দ্রস্থলে” একটি হামলা চালিয়ে বাসিজ মিলিশিয়ার দীর্ঘদিনের কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানিকেও হত্যা করেছে।

লারিজানির মৃত্যু হলে এটি যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য হবে। যুদ্ধটি শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না থাকায় পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম লারিজানির হাতে লেখা একটি নোট প্রকাশ করেছে, যেখানে তিনি ৮৪ জন ইরানি নাবিককে স্মরণ করেছেন। এটি জীবিত থাকার প্রমাণ হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে কিনা, নাকি আগে থেকে প্রস্তুত বিবৃতি—তা স্পষ্ট নয়।

ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব লারিজানিকে সর্বশেষ গত শুক্রবার তেহরানে বার্ষিক আল-কুদস দিবসের সমাবেশে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে দেখা গেছে। তিনি এর আগে পার্লামেন্টের স্পিকার এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের প্রধান পারমাণবিক আলোচক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

সোমবার প্রচারিত এক বার্তায় লারিজানি উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের “বিশ্বাসঘাতক আগ্রাসনের” বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি ইরানকে সমর্থন না দেওয়ায় অন্যান্য ইসলামী দেশগুলোর সমালোচনা করেন এবং বলেন বর্তমান সংঘাতে “মধ্যপথ বলে কিছু নেই।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনি কোন পক্ষের?” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না।

১৯৬৫ সালে জন্ম নেয়া গোলামরেজা সোলেইমানি ছয় বছর ধরে বাসিজ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাকে ভিন্নমত দমন করার অভিযোগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রেখেছিল। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর গঠিত এই স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক বাহিনী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে এবং বহুবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে মোতায়েন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডগুলো ইসরায়েলের জন্য প্রতীকী ও মানসিকভাবে বড় বিজয় হলেও ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাবে না। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, “সবসময়ই আরেকজন নেতা থাকে। তাই এটি ইরানি শাসনের পতনের ইঙ্গিত নয়।” 

পশ্চিম তীর থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক নিদা ইব্রাহিম জানান, এই দাবিকৃত হত্যাকাণ্ড ইসরায়েলে বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উদযাপিত হবে।

তেহরান থেকে আল-জাজিরার তোহিদ আসাদি জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের কথিত হামলা শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; আহভাজ, ইসফাহান এবং শিরাজসহ দেশের বিভিন্ন শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। 

সূত্র: আল-জাজিরা

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!