ঢাকা,  রোববার   ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

তেল আবিবে ইরানের ক্লাস্টার বোমা হামলায় নিহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৪৪, ১৮ মার্চ ২০২৬
তেল আবিবে ইরানের ক্লাস্টার বোমা হামলায় নিহত ২
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের তেল আবিবে ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ) রাতে জনবহুল তেল আবিবে চালানো এ হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। চলমান সংঘাতে ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৪ জনে।

এদিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে এতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে ইরান সংস্থাটিকে জানিয়েছে।

আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সংঘাতের মধ্যে পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে ইরানে তারা যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তার অন্যতম লক্ষ্য ছিল তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখা। ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

ইরান সরকার মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে যে আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাত শুরুর প্রথম দিন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর লারিজানিই এখন পর্যন্ত নিহত হওয়া সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরান বারবার ক্লাস্টার ওয়ারহেড ব্যবহার করছে। এ ধরনের অস্ত্র মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে অসংখ্য ছোট ছোট বোমায় বিভক্ত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে, ফলে সেগুলো প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, গত সোমবার রাতে ইসরায়েলি হামলায় আলী লারিজানির ছেলে এবং তাঁর ডেপুটি আলিরেজা বায়াতও নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমানো বা যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্রনীতি–সংক্রান্ত এক বৈঠকে অংশ নিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং তারা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ শান্তির সঠিক সময় আসবে না।’

তবে গত সপ্তাহে নিহত বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোজতবা খামেনির কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানাননি তিনি বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন, নাকি দূর থেকে অংশ নিয়েছিলেন।

সূত্রঃ দ্যা মিডিয়া লাইন 
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/টিএএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!