ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের ওপর ভরসা রাখছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৪৬, ২২ মে ২০২৬
যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের ওপর ভরসা রাখছে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ -ফাইল ছবি।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এ ক্ষেত্রে সমঝোতা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের ওপর আস্থা রাখছেন তিনি।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা থমকে যাওয়া আলোচনা একটি চুক্তি ও নতুন হামলার মাঝামাঝি এক দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস পাকিস্তানিরা আজ তেহরানে যাচ্ছেন। আশা করি, এতে আলোচনায় আরও অগ্রগতি হবে।’

Advertisement

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ থেমে যায়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সরাসরি বৈঠকসহ নানা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো স্থায়ী সমঝোতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বুধবার এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ইরান সফর করেন। তাকে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ইরানের সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে ইসনা বার্তা সংস্থা, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল যে আসিম মুনির নিজেও বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তেহরান সফর করতে পারেন। তবে সেনাপ্রধানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।

অন্যদিকে বেইজিং ঘোষণা দিয়েছে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শনিবার চীন সফরে যাচ্ছেন। যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় চীনও সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে।

যদিও উপসাগরীয় অঞ্চলে সরাসরি যুদ্ধ ও হামলা কমেছে, তবু চলমান অচলাবস্থা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

এপ্রিল মাসে পাকিস্তান এমন একমাত্র সরাসরি বৈঠকের আয়োজন করেছিল, যেখানে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা মুখোমুখি আলোচনায় বসেন। সেই আলোচনায় মধ্যস্থতা করেন আসিম মুনির।

তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনা ব্যর্থ হয়। তেহরান অভিযোগ তোলে, ওয়াশিংটন “অতিরিক্ত দাবি” উত্থাপন করেছে।

এরপর থেকে উভয় পক্ষ একাধিক প্রস্তাব বিনিময় করেছে। একই সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কাও থেকেই গেছে।

বুধবার সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “বিশ্বাস করুন, বিষয়টি একেবারে সংকটসীমায় রয়েছে। আমরা যদি সঠিক উত্তর না পাই, তাহলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যাবে। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, খুব দ্রুত কিংবা কয়েক দিনের মধ্যেই একটি চুক্তি হতে পারে। তবে এজন্য তেহরানকে “শতভাগ সন্তোষজনক উত্তর” দিতে হবে।

এদিকে মার্কো রুবিও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহযোগিতা না করায় উত্তর আটলান্টিক জোটভুক্ত দেশগুলোরও সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “তিনি তাদের সেনা পাঠাতে বলেননি, যুদ্ধবিমান পাঠাতেও বলেননি। কিন্তু তারা কোনো ধরনের সহায়তাই করতে রাজি হয়নি। আমরা এতে খুবই অসন্তুষ্ট।”

সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় তেহরানও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বুধবার সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর নতুন হামলা হলে ওয়াশিংটনকে “কঠোর জবাব” দেওয়া হবে।

গালিবাফ বলেন, “শত্রুর প্রকাশ্য ও গোপন তৎপরতা প্রমাণ করে যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তারা সামরিক লক্ষ্য থেকে সরে আসেনি এবং নতুন যুদ্ধ শুরুর চেষ্টা করছে।”

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ওয়াশিংটনের পাঠানো প্রস্তাবগুলো ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি পর্যালোচনা করছে। একই সঙ্গে বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।

ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দিলেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সমাধান খুঁজে বের করতে দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুদ্ধবিরতির ফলে সংঘাত বন্ধ হলেও হরমুজ প্রণালি এখনো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়নি। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়।

হরমুজের ভবিষ্যৎ এখনো আলোচনার অন্যতম বড় জটিলতা হিসেবে রয়ে গেছে। যুদ্ধপূর্ব তেলের মজুত কমে আসায় বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।

যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবে ইরান হরমুজে অবরোধ আরোপ করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে খুব সীমিতসংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে নতুন টোল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

হরমুজ তদারকিতে ইরানের নতুন সংস্থা দাবি করেছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ এলাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। এতে আবুধাবি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর থেকে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক তীব্রভাবে অবনতি হয়েছে।

বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার পরিবহন হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়। ফলে দীর্ঘ সময় অবরোধ চললে খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি ও সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধের আরেক ফ্রন্টে, লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ অব্যাহত রেখেছে। তাদের দাবি, তারা হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩ হাজার ৮৯ জন নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহ লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে।

এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট নয়জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে লেবাননের শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/SA
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!