ট্রাম্পের অভিযোগের মধ্যেই মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনের নামে ইরান সরকার এক লাখের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে।
.png)
সোমবার স্থানীয় সময় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামরিক সক্ষমতার কঠোর সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে কার্যত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনীর কার্যকর সক্ষমতা নেই। তার অভিযোগ, দেশটির সরকার সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত বেতন দিতে পারছে না। একই সঙ্গে ইরানে মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘পুরোপুরি বিশৃঙ্খল’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, দেশটির নেতারা নিজেদের দেশ পরিচালনা কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকরভাবে প্রতিনিধিত্ব করার সক্ষমতা হারিয়েছেন।
তার অভিযোগ, জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ইরান সরকার অপপ্রচার ও শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। চলমান বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগও তুলে তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের হাতে এখন যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানো এবং বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা ছাড়া আর কিছু নেই।
বিক্ষোভে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন দাবি করে ট্রাম্প বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইরানের নেতৃত্বকে বিচারের আওতায় আনা উচিত।
এর আগে রোববার রাতে ফক্স নিউজের ‘সানডে নাইট ইন আমেরিকা’ অনুষ্ঠানে ইরানকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে পাল্টা সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, আল মিনহাদ ঘাঁটিতে অবস্থানরত হেলিকপ্টার ও সামরিক সদস্যদের লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ড্রোন পাঠানো হয়েছে। সোমবার ভোর থেকে এই অভিযান শুরু হয় বলে জানিয়েছে তারা।
এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। লারাক দ্বীপে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটি বিদেশি সেনাদের সহায়তা ও সামরিক পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আঞ্চলিক হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে নিহতদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন স্থাপন ও রকেট হামলার প্রস্তুতি নিতে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেছে।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান পরিচালনা করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবহন হয়ে থাকে।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আরও জানিয়েছে, রোববার রাতে লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো অভিযানে তাদের সামরিক সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। এ ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বাহিনীটি।