ঢাকা,  রোববার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

হুতিদের হামলায় সৌদির পাশে তুরস্ক

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:৩৮, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হুতিদের হামলায় সৌদির পাশে তুরস্ক
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরবের প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সামরিক ও বিশেষ করে প্রযুক্তিগত কিছু চাহিদা থাকলে সাম্প্রতিক ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তা পূরণ করতে প্রস্তুত আঙ্কারা। 

শনিবার তুরস্কের সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর হামলা হচ্ছে। ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে জোটগত সহযোগিতার বিষয়টি রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে তুরস্ক সৌদির প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছে। সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে বিশেষ করে কিছু কারিগরি প্রয়োজন পূরণে তাদের আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি। 

গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল নীতির মধ্যে রয়েছে—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা। আগস্টের শেষ দিকে তিন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এর কাঠামোকে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’ হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় এবং রিয়াদে একটি সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

Advertisement

চুক্তির পরপরই এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বাড়ায় জোটের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে পরিস্থিতিটিকে দেখা হচ্ছে। তবে তুরস্ক জানিয়েছে, এই জোট বিদ্যমান কোনো আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক সামরিক জোটকে প্রতিস্থাপন করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়নি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অন্য দেশকে এতে যুক্ত করার সুযোগও খোলা রাখা হয়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের হুতিরা জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণা করার পর দেশটির শহর, জ্বালানি অবকাঠামো ও নৌপথে হামলা বাড়িয়েছে। শনিবার হুতিরা রিয়াদের ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করে। সৌদি কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল, যা প্রতিহত করা হয়। হামলার সময় রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরের কাছে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যায়।

এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও নৌবাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। হরমুজ প্রণালির চলাচল ব্যাহত থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হয়ে উঠেছে। হুতিদের হামলা সেই পথকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

পাকিস্তানও মক্কা চুক্তির অধীনে সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়নি; প্রয়োজন হলে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফিদান একই সঙ্গে বলেছেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে টেনে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। যুদ্ধ বন্ধে বিভিন্ন পক্ষের কাছে নতুন কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তুরস্ক হুতিদের হামলার নিন্দা করে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!