ঢাকা,  শনিবার   ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি নেই, দিল্লিজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৫, ১০ অক্টোবর ২০২৬
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি নেই, দিল্লিজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা
শহরজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত



ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রস্তাবিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। রাজধানীজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ। পাশাপাশি নিরাপত্তাজনিত কারণে ২৫৪টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রাজধানীর সীমান্ত, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

তবে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। প্রশাসনিক অনুমতি না নেওয়া, অতীতের আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা এবং বড় জমায়েতের কারণে নিরাপত্তা ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কার কথা জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যগুলোকে সতর্কবার্তা

বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশপ্রধানদের চিঠি দিয়েছেন। দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের দপ্তর ও দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তর ঘিরে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে ছয় হাজার ৫০০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের কথা রয়েছে। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া সড়কগুলোতে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সম্ভাব্য আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য ১২টি আটককেন্দ্রও প্রস্তুত করেছে পুলিশ।

মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ

নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকার কথা। তবে অধিকাংশ স্টেশনে আন্তলাইন সংযোগ চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ১০ অক্টোবর সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ২৫৪টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫টি মেল ও এক্সপ্রেস এবং ১৭৯টি লোকাল ট্রেন রয়েছে। এতে দিল্লির সঙ্গে গাজিয়াবাদ, মিরাট, পানিপথ ও কুরুক্ষেত্রসহ বিভিন্ন এলাকার রেল যোগাযোগে প্রভাব পড়তে পারে।

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশও প্রায় ৩০টি সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নিয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী যান চলাচলের পথ পরিবর্তন করা হতে পারে। যাত্রীদের রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনেট বন্ধ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও প্রভাব

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনপথ ও কর্তব্য পথের সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার অংশ হিসেবে দিল্লির খুচরা মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কনট প্লেসসহ কয়েকটি এলাকার ব্যবসায়ী সংগঠনও দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে।

এদিকে, প্রতিবেশী উত্তরপ্রদেশের দিল্লিসংলগ্ন জেলাগুলোতেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। রাজধানীমুখী সড়কে যানবাহন তল্লাশি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভের অনুমতি না দিলেও সমর্থকেরা জমায়েতের চেষ্টা করতে পারেন—এমন আশঙ্কা করছে প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও দৈনন্দিন কার্যক্রম যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখাই কর্তৃপক্ষের বড় চ্যালেঞ্জ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!