ঢাকা,  শনিবার   ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

এত কিছু করেও নোবেল পেলাম না, ক্ষোভ ট্রাম্পের

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:৫৭, ১০ অক্টোবর ২০২৬
এত কিছু করেও নোবেল পেলাম না, ক্ষোভ ট্রাম্পের
সংগৃহীত ছবি

নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।পুরস্কারজয়ী নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইয়ের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, বিশ্বে একাধিক সংঘাতের অবসান ঘটানোসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও তাকে পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নরওয়ের জন্য দীর্ঘস্থায়ী কলঙ্ক হয়ে থাকবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিরাকিউজে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ নিয়ে অসন্তোষ জানান ট্রাম্প। নাভি পিল্লাইকে ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পিল্লাই কী করেছেন, তা তার জানা নেই। একই সঙ্গে নরওয়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাকে পুরস্কার না দেওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ভুলে যাবে না।

এর আগে, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টেও নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি দাবি করেন, আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং আরও দুটি সংঘাতের সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছেছেন। এ ছাড়া ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার মতো পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্পের ভাষ্য, এসব উদ্যোগের পরও তাকে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর। ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়েও নিজের সাফল্যের দাবি করেন তিনি। দেশটির একজন কর্তৃত্ববাদী নেতাকে আটক করার কথাও পোস্টে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

তবে ট্রাম্পের আটটি সংঘাতের অবসান ঘটানোর দাবির সবকটির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই। কয়েকটি সংঘাতের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশ ও অন্যান্য পক্ষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

প্রায় ১০ মিনিটের বক্তব্যে ট্রাম্প আবারও বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার তার প্রাপ্য ছিল। তাকে পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নরওয়ে ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য বিব্রতকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে নিজেকে এ পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। পুরস্কার নিয়ে নরওয়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেশটির অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তা পাঠানোর ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

তবে নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রাইডনেস শনিবার বলেন, পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে কমিটি নরওয়ে সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়। আলফ্রেড নোবেলের উইলে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে যোগ্য ব্যক্তিদের সম্মানিত করাই কমিটির দায়িত্ব।

ট্রাম্পের অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করে ফ্রাইডনেস বলেন, সাহস ও সততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রাখেন, তাদের স্বীকৃতি দেওয়াই এ পুরস্কারের উদ্দেশ্য। শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে হলে বিশ্বকে সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি দেশটির সরকারের কোনো অংশ নয়। যদিও সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে কমিটির সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!